![]()
নিউজ প্রোভাইডার
মৌসুমি বায়ুর প্রচ্ছন্ন প্রভাবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। অভূতপূর্ব এই ভারী বর্ষণে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ ও বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। টানা বৃষ্টিতে দেওয়াল ধসে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, রেললাইন ডুবে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেন চলাচল। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাস স্থবির হয়ে পড়েছে এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে পারেনি একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরীতে মোট ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা জানান, এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ৪১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। ফলে গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত গত ৪৩ বছরের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। সমুদ্রবন্দরে বর্তমানে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি রাখা হয়েছে এবং নদীগুলোতে হালকা বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির যুগপৎ প্রহারে বন্দরনগরীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটুপানি থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে একাকার হয়ে গেছে। এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে নগরীতে চলমান প্রায় ১০ হাজার৪০৮ কোটি টাকার মেগা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পগুলোর প্রকৃত কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে সাধারণ মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে নগরীর পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায় একটি দেওয়াল ধসে শফিকুল রহমান নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং একই পরিবারের আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এদিকে পাহাড়ধসের চরম ঝুঁকিতে থাকা ২৬টি পাহাড়ের ঢাল থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন ব্যাপক মাইকিং ও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। যেকোনো জরুরি উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ১০১ সদস্যের বিশেষ ‘র্যাপিড রেসপন্স টিম’।
তীব্র বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে রেললাইন সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ‘পর্যটক’ ও ‘প্রবাল’ এক্সপ্রেসের প্রায় এক হাজার যাত্রী মাঝপথে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অন্যদিকে, সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা ৪৩টি বড় জাহাজের পণ্য খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত রাখতে হয়েছে। এছাড়া শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ওমান ও শারজাহ থেকে আসা দুটি আন্তর্জাতিক এবং ঢাকা থেকে আসা একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
