Touch Bangladesh
ঢাকারবিবার , ১৯ জুলাই ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

কুষ্টিয়ায় গোখরার ছোবলে ওঝা আহত, বাঁচাল হাসপাতালের অ্যান্টিভেনম

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
জুলাই ১৯, ২০২৬ ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

নিউজ প্রোভাইডার 

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় একটি বসতবাড়ি থেকে বিষধর গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ইমরান হোসেন (৩৮) নামে এক সাপুড়ে ও ওঝা। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহত ইমরান হোসেন ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্তান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উল্লেখ্য, নিজেকে সাপুড়ে ও ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরান বিভিন্ন স্থান থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাপ ধরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করে আসছিলেন।

একই বাড়িতে সাপের কামড়ে সন্তানের মৃত্যু, পরদিনই সাপুড়ের আগমন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ওই বাড়ির মালিক আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট সাপের কামড়ে মারা যান। সম্রাটের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শুক্রবার বাড়িটিতে আবারও সাপ দেখা গেলে পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কিত হয়ে সাপুড়ে ইমরানকে খবর দেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসেন জানান, তিনি বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে প্রথমে তিনটি সাপের বাচ্চা উদ্ধার করেন। পরে একটি গভীর গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ টেনে বের করেন। তবে সাপটি বাগে আনার প্রায় দেড় মিনিটের মধ্যে অসাবধানতাবশত সেটি ইমরানের হাঁটুর ওপরে প্রচণ্ড জোরে ছোবল দেয়। এ সময় স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ওঝার কার্ডে ‘গোপন রোগের চিকিৎসা’ ও চিকিৎসকদের হুঁশিয়ারি

এই ঘটনার পরপরই ইমরান হোসেনের একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কার্ডে তিনি নিজেকে সাপুড়িয়া হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি সাপ ধরা, সাপের বিষ ঝাড়া এবং বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের কবিরাজি চিকিৎসা করার অলৌকিক দাবি করেছেন। অথচ বিষ ঝাড়ার দাবি করা সেই ওঝা নিজেই সাপের বিষের মুখোমুখি হয়ে হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, হাসপাতালে আনার পরপরই ইমরানকে প্রয়োজনীয় ও আধুনিক চিকিৎসা এবং প্রাণরক্ষাকারী ‘অ্যান্টিভেনম’ দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে ও তিনি আশঙ্কামুক্ত আছেন।

চিকিৎসক ইকবাল হাসান দেশবাসীকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। যাদের সাপে কাটে, তাদের যেন কোনো ওঝা বা সাপুড়ের কাছে নিয়ে সময় নষ্ট না করে, সরাসরি ও দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ওঝার ঝাড়ফুঁকে কোনো কাজ হবে না, একমাত্র বৈজ্ঞানিক চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনমই সাপে কাটা রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।