Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ৭ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

শিশুদের নিরাপত্তায় ব্যর্থতা: মেটাকে আরও ৫৬ কোটি ডলার জরিমানা | আন্তর্জাতিক সংবাদ

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
আগস্ট ৭, ২০২৬ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

শিশুদের জন্য প্ল্যাটফর্মের ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য গোপন ও নিরাপত্তায় ব্যর্থতার অভিযোগে মেটাকে (Meta) আরও ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ৪,২১০ কোটি টাকা) জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো রাজ্যের একটি আদালত। শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে টেক জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত পাওয়া একক সর্বোচ্চ জরিমানার রায়।

এর আগেও একই মামলায় মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। নতুন এই রায়ের ফলে মামলাটিতে মেটাকে দেয়া মোট শাস্তিমূলক জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াল ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলারে (প্রায় ৯,৪২০ কোটি টাকা)

মেটাকে ‘জনউপদ্রব’ ও পরিবেশ দূষণের সঙ্গে তুলনা

মামলার রায়ে নিউ মেক্সিকোর বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড (Judge Bryan Biedscheid) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটাকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কারখানার সাথে তুলনা করেছেন।

“মেটা একটি বায়ুদূষণকারী কারখানার মতো। এই কারখানার উৎপাদিত পণ্য হলো তাদের বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট, আর এর ফলে তৈরি হওয়া পরিবেশ দূষণ হলো শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণ।”

বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড

তিনি উল্লেখ করেন, প্ল্যাটফর্মের এই ক্ষতিকর প্রভাব কেবল অ্যাপের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে ও বাস্তব সমাজে—যার খেসারত দিতে হয় শিশু, পরিবার, স্কুল ও হাসপাতালগুলোকে। আদালত মেটার এই কর্মকাণ্ডকে আইনগতভাবে ‘জনউপদ্রব’ (Public Nuisance) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

জরিমানার অর্থ যেভাবে ব্যবহৃত হবে

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মেটাকে জরিমানার এই অর্থ নিউ মেক্সিকোর একটি বিশেষ তহবিলে জমা দিতে হবে। জরিমানার বিপুল অংশ ব্যবহৃত হবে:

  • শিশুদের মানসিক চিকিৎসায়: প্রায় ৪২ কোটি ডলার খরচ হবে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের মানসিক ও মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসায়।

  • সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিতে: বাকি অর্থ অনলাইন নিরাপত্তা সচেতনতা, রোগ নির্ণয়, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ এবং অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারকরণে ব্যয় করা হবে।

মামলাটিতে কী ঘটেছিল?

২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল মেটার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রথম ধাপে জুরি দেখতে পান:

  1. মেটার রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম শিশুদের অযাচিতভাবে ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং যৌন শিকারিদের (Sexual Predators) মুখোমুখি করে দেয়।

  2. ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার অ্যালগরিদমিক ডিজাইনের কারণে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটে।

মেটার প্রতিক্রিয়া ও আপিলের ঘোষণা

ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা আদালতের এই রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

মেটার এক মুখপাত্র জানান:

“আমরা এই রায়ের সঙ্গে একমত নই এবং উচ্চ আদালতে আপিল করব। আমাদের প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা কঠোরভাবে কাজ করছি। অনলাইন সুরক্ষায় আমাদের যে রেকর্ড, সে ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং আদালতের তথ্য বিকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।”

বিশ্বজুড়ে বিপাকে মেটা

যদিও মেটার বিশাল আয়ের (চলতি বছরের মে-জুন প্রান্তিকে মেটার আয় ছিল ৬,১০০ কোটি ডলার) তুলনায় এই জরিমানা সামান্য, বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিশ্বজুড়ে টেক জায়ান্টদের জবাবদিহিতার এটি একটি বড় মাইলফলক।

টুইটারের (বর্তমানে এক্স) ইউরোপীয় অঞ্চলের সাবেক সহ-সভাপতি ব্রুস ডেইসলি জানান, “মেটার মতো কোম্পানির কাছে জরিমানার এই অঙ্ক হয়তো সামান্য, তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে বিশ্বজুড়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।”

বর্তমানে মেটা যুক্তরাষ্ট্রে শিশু সুরক্ষায় অবহেলা এবং অ্যাডিকটিভ (আসক্তিকর) অ্যালগরিদম তৈরির অভিযোগে হাজার হাজার মামলার মুখোমুখি হচ্ছে।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।