Touch Bangladesh
ঢাকাশনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

‎আজ রাষ্ট্রের বিবেকবানদের বিবেক কোথায়?

প্রতিবেদক
Touch Bangladesh News
আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading


‎স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল

‎১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গভীর বেদনাবিধুর ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর দিন। এই দিনে ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রীয় পিতা শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। একই তারিখে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনও পালিত হয়ে আসছে। ২০২৬ সালের ১৫ আগস্টও বিএনপি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ কর্মসূচি পালন করছে।

‎এখানেই আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রাষ্ট্রের বিবেকবানদের বিবেক কোথায়?

‎আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক দিবস, বিএনপির সময় বিএনপিকেন্দ্রিক দিবস—এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি আর কতদিন চলবে? ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে কি রাষ্ট্রের অবদানদের পালাও কি বদলাতে থাকবে? একটি রাষ্ট্র কি কেবল ক্ষমতাসীন দলের ইতিহাস ও আবেগের প্রতিনিধিত্ব করবে, নাকি রাষ্ট্র হবে দল-মতের ঊর্ধ্বে সব নাগরিকের?

‎রাষ্ট্রীয় পিতা শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের একজন কেন্দ্রীয় নেতা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁর হত্যাকাণ্ড এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নির্মম অধ্যায়। সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতি শোক, নিন্দা ও মানবিক বেদনা প্রকাশ করা কোনো দলের প্রতি আনুগত্যের বিষয় হওয়া উচিত নয়। এটি ইতিহাসের প্রতি দায়িত্ব এবং হত্যার বিরুদ্ধে সভ্য সমাজের নৈতিক অবস্থান।

‎অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়াও বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের একটি প্রধান চরিত্র। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তাঁর নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা হতে পারে—কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও তাঁর প্রতি মানুষের আবেগকেও ইতিহাসের অংশ হিসেবে স্বীকার করতে হবে।

‎কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজনকে স্মরণ করতে গিয়ে কি অন্যজনকে অস্বীকার করতে হবে?

‎আমরা কেন এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করতে পারলাম না, যেখানে রাষ্ট্রের পিতাকে স্মরণ করা মানেই বিএনপিকে ঘৃণা করা নয় এবং খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন মানেই  ইতিহাসকে অস্বীকার করা নয়? কেন রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ করবে কে কাকে স্মরণ করবে, কে শোক করবে আর কে শ্রদ্ধা জানাবে, কে জন্মদিন পালন করবে?

‎রাষ্ট্রের কাজ কোনো রাজনৈতিক দলের স্মৃতি পাহারা দেওয়া নয়। রাষ্ট্রের কাজ হলো ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা, সত্যকে অনুসন্ধান করা, অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের বহুমাত্রিক বাস্তবতা তুলে ধরা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করবে, বিএনপি খালেদা জিয়াকে স্মরণ করবে—এটি রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক অধিকার। কিন্তু রাষ্ট্রের অবস্থান হওয়া উচিত আরও বিস্তৃত, আরও নিরপেক্ষ এবং আরও মানবিক।

‎আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত এখানেই—আমরা ইতিহাসকে জাতীয় সম্পদ না বানিয়ে দলীয় সম্পদ বানিয়ে ফেলেছি। ফলে ক্ষমতা বদলালে স্মৃতির ভাষা বদলায়, দিবসের গুরুত্ব বদলায়, রাষ্ট্রীয় আয়োজনের ধরন বদলায়। অথচ ইতিহাস তো ক্ষমতার মেয়াদ অনুযায়ী বদলানোর বিষয় নয়।

‎আজ তাই রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন—আগামী দিনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আবার আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক দিবস, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিএনপিকেন্দ্রিক দিবস—এই চক্র কি চলতেই থাকবে?

‎আমরা কি এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি না, যেখানে জাতীয় ইতিহাসকে কোনো দল নিজের একচেটিয়া সম্পত্তি মনে করবে না? যেখানে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের শোক প্রকাশ করা যাবে দলীয় পরিচয় ছাড়াই, আবার খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদান স্মরণ করাও অপরাধ বা বিদ্বেষের বিষয় হবে না?

‎১৫ আগস্ট আমাদের সামনে তাই শুধু দুটি রাজনৈতিক স্মৃতির সংঘাত নয়; এটি রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরে।

‎রাষ্ট্র কি দলের হবে, নাকি জনগণের?
‎ইতিহাস কি ক্ষমতার হবে, নাকি সত্যের?
‎স্মৃতি কি প্রতিহিংসার হবে, নাকি মানবিকতার?

‎সময় এসেছে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিবেকের পালাবদল নয়—আমরা চাই একটি স্থায়ী, নিরপেক্ষ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় চেতনা।

‎১৫ আগস্ট হোক বিভেদের নয়, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার দিন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের শোক থাকুক ইতিহাসের যথাযথ মর্যাদায়; খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান থাকুক রাজনৈতিক ইতিহাসের যথাযথ জায়গায়। আর রাষ্ট্র থাকুক সবার ঊর্ধ্বে—কোনো দল, ব্যক্তি বা ক্ষমতার নয়; জনগণের রাষ্ট্র হিসেবে। আজকে আমরা থাকবো, আগামীতে অন্য কেউ আসবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

‎১৫ আগস্ট—ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি, স্বাধীনতা, প্রাণীকল্যাণ এবং মানবিকতার নানা অধ্যায়। বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজকের দিনটি ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্যে পালিত হচ্ছে। আজকের বিভিন্ন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি দিনও কত বিচিত্র ইতিহাস ও মূল্যবোধের বাহক হতে পারে।

‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে ১৫ আগস্ট বিশেষভাবে আলোচিত একটি দিন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনও এই তারিখকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, দলীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয়কে নতুন প্রজন্মের কাছে দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরা সময়ের দাবি।

‎একই দিনে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মৌমাছি দিবস। মৌমাছি শুধু মধু উৎপাদন করে না; কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় পরাগায়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তন, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার ও পরিবেশ দূষণের কারণে মৌমাছিসহ পরাগায়নকারী প্রাণীর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। তাই প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে আমাদের খাদ্যব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎকেও রক্ষা করা।

‎আজ আন্তর্জাতিক গৃহহীন প্রাণী দিবসও পালিত হচ্ছে। রাস্তায় থাকা অসহায় কুকুর-বিড়ালসহ প্রাণীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো একটি সভ্য সমাজের মানবিক দায়িত্ব। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করা, নির্বিচারে হত্যা না করে দায়িত্বশীলভাবে পরিচর্যা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

‎১৫ আগস্ট ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, কঙ্গো, বাহরাইনের  মতো দেশের জন্যও ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ও মুক্তির দিন। সবার স্বাধীনতা দিবস  আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা কোনো জাতির জন্যই সহজে অর্জিত সম্পদ নয়। এর পেছনে থাকে ত্যাগ, সংগ্রাম এবং আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ পথ। একইভাবে বাহরাইন ও কঙ্গোর জাতীয় দিবসও তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের স্মারক।

‎বাংলা সাহিত্যেও ১৫ আগস্টের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মদিন এই দিনটিকে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত করেছে। তাঁর কবিতায় ক্ষুধা, বৈষম্য, শোষণ ও সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের যে প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে, তা আজও প্রাসঙ্গিক।

‎তবে একটি বিষয় সব কিছুর ঊর্ধ্বে—ইতিহাসকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে রেখে দেখা। আমরা রাষ্ট্রকে মানবসম্পদ হিসেবে দেখছি। কোনো দিবসকে ঘিরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ইতিহাসকে বিকৃত করা, প্রতিপক্ষকে ঘৃণা করা কিংবা মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বরং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্র, মানবিকতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য।

‎১৫ আগস্ট তাই শুধু স্মরণ করার দিন নয়; এটি আমাদের সামনে প্রশ্নও রাখে—আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? বিশ্ব প্রশ্ন করে – আমরা কেমন বাংলাদেশি। এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে রাজনৈতিক মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু সহিংসতা থাকবে না; যেখানে স্বাধীনতার মর্যাদা থাকবে, কিন্তু অন্যের স্বাধীনতার প্রতি অবজ্ঞা থাকবে না; যেখানে মানুষ যেমন নিরাপদ থাকবে, তেমনি প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতিও থাকবে দায়িত্বশীল আচরণ।

‎আজ যাঁদের জন্মদিন, তাঁদের প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সৃষ্টিকর্তা তাঁদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণময় জীবন দান করুন। আর দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে স্মরণ করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা ও রাষ্ট্রীয় পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

‎স্মৃতি আমাদের ইতিহাস শেখাক, স্বাধীনতা আমাদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিক, আর মানবিকতা আমাদের ভবিষ্যতের পথ দেখাক—১৫ আগস্টের বহুমাত্রিক তাৎপর্য সেখানেই।

লেখক: স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল (সিইও, প্রতিষ্ঠাতা: বাংলাদেশ সাপোর্টার্স ফোরাম)

‎[বি.দ্র. : এটি  কারো প্রতি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতামত রয়েছে।  রাষ্ট্রীয়বাদী ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেলের নিজস্ব মতের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা। ]

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।