![]()
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ঐতিহাসিক সংশোধন: দান করলেও আজীবন ভোগের সুযোগ, সুরক্ষায় প্রবীণরা
বঁার্ধক্যে সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে বাবা-মায়ের ঘরছাড়া বা অসহায় হয়ে পড়ার ঘটনা প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’। পাস হওয়া এই আইনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি তাঁর রক্তসম্পর্কের স্বজন বা স্বামী/স্ত্রীকে সম্পত্তি দান করার পরও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগদখল করার পূর্ণ আইনি অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।
- 🏡 আজীবন ভোগাধিকার (১২২ ক ধারা): নিজের জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখল নিজের কাছে রেখেই সন্তান, নাতি-নাতনি বা জীবনসঙ্গীকে সম্পত্তি দান করা যাবে।
- 🔒 দান বাতিলের নিয়ম (১২২ খ ধারা): রেজিস্ট্রি করা দান সাধারণভাবে বাতিল করা যাবে না; তবে আর্থিক, চিকিৎসা বা জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে শর্তসাপেক্ষে তা পরিবর্তন/বাতিল যোগ্য।
- ⚖️ হেবা বা ধর্মীয় আইনের ওপর প্রভাব নেই: মুসলিম পারিবারিক আইনের ‘হেবা’ বা প্রচলিত সাধারণ দানের নিয়ম অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে; এটি সব ধর্মের নাগরিকদের জন্য একটি ঐচ্ছিক ও স্বতন্ত্র পদ্ধতি।
- 🛡️ প্রবীণ ও নারীদের সুরক্ষা: সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রম বা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
আইনের নতুন ধারা ও দান হস্তান্তরের আওতা
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের, দাদা-দাদি বা নানা-নানি তাঁদের নাতি-নাতনিদের এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে এই ধারায় সম্পত্তি দান করতে পারবেন। বিপরীতক্রমে সন্তান বা নাতি-নাতনিরাও তাঁদের প্রবীণ অভিভাবকদের সম্পত্তি দিতে পারবেন। দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় যদি গ্রহীতার মৃত্যু হয়, তবে দান করা সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে, কিন্তু দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকারের ওপর তার কোনো প্রভাব পড়বে না।
আইনবিদদের স্বাগত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা বিলটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, প্রতারণার মাধ্যমে প্রবীণদের জমি লিখিয়ে নেওয়ার পর তাঁদের বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা এতে রোধ হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও তাসলিমা ইয়াসমীন স্পষ্ট করেছেন, এটি মুসলিম পারিবারিক আইন বা হেবা বিধানকে ক্ষুণ্ণ করে না। অন্যদিকে বিরোধী দল এবং ইসলামী দলগুলো এই আইনটিকে ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে আপত্তি প্রকাশ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
সংশোধিত সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ২০২৬-এর সংক্ষেপণ
| আইনি ধারা/বিষয় | বিধানের বিবরণ |
|---|---|
| ধারা ১২২ (ক) | জীবদ্দশায় ভোগাধিকার নিজের কাছে সংরক্ষণপূর্বক স্বজনদের সম্পত্তি দানের অধিকার প্রদান। |
| ধারা ১২২ (খ) | নিবন্ধিত দান সহজে বাতিল অযোগ্য; তবে প্রকৃত চিকিৎসা, আর্থিক বা পারিবারিক প্রয়োজনে পরিবর্তনের সুযোগ। |
| প্রাহক ও দাতার সম্পর্ক | বাবা-মা, সন্তান, দাদা-দাদি/নানা-নানি, নাতি-নাতনি এবং স্বামী-স্ত্রী। |
| ধর্মীয় বিধির সাথে সম্পর্ক | হেবা বা ধর্মীয় উত্তরাধিকার আইনের বিকল্প বা সাংঘর্ষিক নয়, এটি সাধারণ আইনের অন্তর্ভুক্ত একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। |
