Touch Bangladesh
ঢাকাসোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ইলিশের উৎপাদন কমছে চার কারণে: ভরা মৌসুমেও বাজারে আগুন

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের নিচতলায় পাঁচটি ইলিশের দোকান। বিক্রেতারা ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা নেই। মাছ কিনতে এসে দরদাম করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী আলতাফ হোসেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আলতাফ বলছিলেন, “এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো ইলিশ কিনতে এলাম। ভেবেছিলাম এক কেজি ওজনের একটা মাছ নেব। কিন্তু বিক্রেতা দাম চাচ্ছেন ২,৪০০ টাকা! গত বছরও যা কিনেছি ১,৮০০ টাকায়। এবার এমন কী হলো?”

শেষ পর্যন্ত বাজেটে না মেলায় এক কেজির মাছের বদলে ৭৫০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশ কিনে ফিরতে হয় তাঁকে।

মাছ ব্যবসায়ী শুক্কুর আলী দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই বাজারে ব্যবসা করছেন। তিনি জানান, এবার ১ কেজির নিচে কোনো ইলিশ ২,২০০ টাকার কমে বিক্রি করতে পারেননি। তিনি বলেন, “ইলিশের দাম আর কোনোদিন কমবে বলে মনে হয় না। সব ধরনের মাছের দাম এবার কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি।”

উৎপাদন কমায় গবেষকদের উদ্বেগ

ভরা মৌসুমে ইলিশের এমন অস্বাভাবিক দামের মূল কারণ—টানা দুই বছর ধরে ইলিশের আহরণ বা উৎপাদন কমে যাওয়া। এই চিত্র ভাবিয়ে তুলেছে গবেষকদের।

খ্যাতনামা ইলিশ-গবেষক মো. আনিছুর রহমান এ পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, মানুষ এবং প্রকৃতি—উভয়ের কারণেই ইলিশের এই সংকট তৈরি হয়েছে।

গবেষকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে চারটি প্রধান কারণ কাজ করছে:

  • ক্ষুদ্র ফাঁসের জালের বিস্তার: সাগরের মোহনায় অতিসূক্ষ্ম বেহুন্দি জালের অতিরিক্ত ব্যবহার।

  • অতিরিক্ত মাছ আহরণ: ইলিশ বড় হওয়ার আগেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে তা ধরে ফেলা।

  • নদী ও সাগরের দূষণ: ইলিশের প্রাকৃতিক বিচরণস্থলের পরিবেশ বিনষ্ট হওয়া।

  • ডুবোচরের উৎপত্তি: নদীর নাব্য হারিয়ে যাওয়া ও মোহনায় ডুবোচর তৈরি হওয়া।

গবেষক আনিছুর রহমান বলেন, “এত দ্রুত যে ইলিশের উৎপাদন কমবে, তা আমরা ভাবতে পারিনি। এ নিয়ে এখনই জরুরি গবেষণা প্রয়োজন।”

শূন্য আড়ত, ‘গাঙে মাছ নাই’

ইলিশের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের আড়তগুলো জুলাই মাস থেকেই গমগম করত। তবে চিত্র এখন পুরোপুরি উল্টো।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার জানান, তিন বছর আগেও জুলাইয়ের পর প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার মণ ইলিশ আসত। কিন্তু এবার দিনে ২৫০ মণের বেশি ইলিশ মিলছে না। ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, এতটা মাছের আকাল তিনি আগে কখনো দেখেননি।

একই হাল দেশের অন্যতম বড় আড়ত পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। চার ট্রলারের মালিক ও প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী ফজলু গাজী বলেন, “সাগর থেকে খুব কম ট্রলারই ২০ থেকে ৩০ মণ মাছ নিয়ে ফিরতে পারছে। তা ছাড়া এবার আবহাওয়া সতর্কসংকেতও বেশি ছিল। সোজা কথা, গাঙে মাছই নেই!”

২০০৭-০৮: ২.৯৫ লাখ টন
২০২২-২৩: ৫.৭১ লাখ টন (সর্বোচ্চ)
২০২৩-২৪: ৫.২৯ লাখ টন (৭% হ্রাস)
২০২৪-২৫: ৫.০০ লাখ টন (১২% হ্রাস)

(তথ্যসূত্র: মৎস্য অধিদপ্তর)

ক্রেতার নাগালের বাইরে ইলিশ

চড়া দামের কারণে বাজারে ইলিশের বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ফলে ক্রেতারা এখন বাধ্য হয়ে কম ওজনের ছোট ইলিশ কিনছেন।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সরাফত আলী জানান, এখন ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। “মাছ কম, কাস্টমারও কম। দাম শুনে মানুষ দূরে চলে যায়। তাই বাধ্য হয়ে ছোট মাছ কিনেই মানুষ ইলিশের সাধ মেটাচ্ছেন,” বলেন তিনি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্যমতে, ২০০৪ সালে ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ইলিশের গড় দাম ছিল ৫০৫ টাকা। ২০১৬ সালে ১ কেজির ইলিশ বিক্রি হতো ১ হাজার টাকায়। তবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসে ইলিশের দাম সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে ১ কেজির ইলিশের দাম ২,৪০০ থেকে ২,৬০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

নষ্ট হচ্ছে ইলিশের ‘গোলাঘর’

চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি গবেষক দল সম্প্রতি সমুদ্রের মোহনা ও হাতিয়া অঞ্চলে সমীক্ষা চালিয়েছে। নদীর প্রবেশমুখে বেহুন্দি জালের ফাঁদ দেখে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তায়েফা আহমেদ বলেন, “নদীর মুখে একদম গেটের মতো করে জাল পাতা হয়েছে। এভাবে বিচরণপথ বন্ধ থাকলে ইলিশ নদীতে আসবে কীভাবে?”

তিনি আরও জানান, আগে সংগৃহীত ইলিশের প্রায় ৫০ শতাংশের পেটে ডিম পাওয়া যেত। কিন্তু এ বছর ধরা পড়া মাছের মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশের পেটে ডিম মিলছে। এটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে বাজারে বড় ইলিশের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।