![]()
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত চার বাংলাদেশি নাগরিকের অবশিষ্ট কারাদণ্ড মওকুফ করেছেন ভারতের ত্রিপুরা হাইকোর্ট। সাজা মওকুফের পাশাপাশি তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি টি অমরনাথ গৌড়ের একক বেঞ্চ দুটি পৃথক মামলার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা ও প্রক্রিয়া
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত এই চারজন জেল হেফাজতে থাকবেন। তবে এই সময়ে তাদের আর দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
রাজ্য সরকারও আদালতে জানিয়েছে, সাজা পূর্ণ হওয়ার আগেই তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে কর্তৃপক্ষের কোনো আপত্তি নেই।
যাদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে
আদালত সূত্র জানায়, আটক চারজনের মধ্যে দুজন এক দম্পতি—রতিলাল দাস ও তার স্ত্রী বিনীতা রানী দাস। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রিপুরার সীমান্ত জেলা উনকোটির শ্রীরামপুর মনু সেতু এলাকা থেকে তাদের আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় বিচারিক আদালত তাদের দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
পরবর্তীতে ওই দম্পতি হাইকোর্টে আপিল করে জানান, তারা শুরু থেকেই নিজেদের পরিচয় গোপন করেননি এবং দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে চান। মানবিক দিক বিবেচনায় আদালত তাদের সাজা মওকুফের সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ত্রিপুরার ধলাই জেলার আমবাসা রেল স্টেশন থেকে লিজা ও মনসুরা আক্তার নামে দুই নারীকে আটক করে বিএসএফ। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বিচারিক আদালত তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে তাদের সাজা কমিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।
