![]()
রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে জাহিদ হাসান ইমন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর আস্তানা থেকে ককটেল তৈরির বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সামগ্রী, বিস্ফোরক তৈরির উপাদান এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে।
- 💣 রাসায়নিক উপাদান: ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা ও ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার।
- ⚙️ বিস্ফোরক সামগ্রী: ৫ কেজি মার্বেল, ২ কেজি তারকাঁটা (১ ইঞ্চি) ও গুঁড়ো করার ব্লেন্ডার।
- 🎭 মাস্ক ও ফিতা: ৩টি কার্টনে ৯,০০০টি কাগজের মুখোশ এবং ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক ফিতা।
- 🚨 রাজনৈতিক ছক: ঝটিকা মিছিলে পরিচয় গোপন রাখতে এসব মাস্ক ব্যবহারের পরিকল্পনা।
শ্যামপুর ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার যৌথ অভিযান
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগাশুর এলাকায় শ্যামপুর মডেল থানা ও স্থানীয় থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার মো. তোফায়েল আহমেদ মিঞা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশাল পরিমাণ বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
ঝটিকা মিছিলে পরিচয় গোপনের ছক ও পূর্ব মামলা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ইমন জানায়, লালবাগ এলাকার এক রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সাহায্যে এই ৯ হাজার মুখোশ তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছিল। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের মাঝে বিতরণের উদ্দেশ্যে এগুলো তাঁর বাসায় রাখা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখতেই এই সুদূরপ্রসারী ছক কষা হয়েছিল। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার হওয়া ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় আগে থেকেই দুটি মামলা রয়েছে।
উদ্ধারকৃত মালামাল ও পরিমাণের বিস্তারিত
| সামগ্রীর ধরণ | উদ্ধারকৃত পরিমাণ | ব্যবহারের উদ্দেশ্যে |
|---|---|---|
| কস্টিক সোডা ও সালফার | ১.৫ কেজি ও ১.৬ কেজি | ককটেল তৈরির মূল কেমিক্যাল। |
| মার্বেল ও তারকাঁটা | ৫ কেজি মার্বেল, ২ কেজি তারকাঁটা | ককটেলের স্প্লিন্টার তৈরি। |
| কাগজের মুখোশ ও ইলাস্টিক ফিতা | ৯,০০০টি মাস্ক, ৩০ প্যাকেট ফিতা | মিছিলে পরিচয় গোপন রাখা। |
| ব্লেন্ডার ও টেপ | ১টি ‘জাইপান’ ব্লেন্ডার, ৩১টি টেপ | উপাদান গুঁড়ো করা ও মোড়ানো। |
