![]()
‘কমন শত্রুর’ বিরুদ্ধে রাজপথের অর্জিত ঐক্য বহাল রেখে দেশের সামগ্রিক কল্যাণে একযোগে কাজ করার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্যে করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যাঁরা আমাদের কমন শত্রু, তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঐক্যটা কেন নষ্ট করছেন? কেন নিজেদেরকে তাঁদের পক্ষভুক্ত করছেন?” শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
- 🤝 ঐক্যের আহ্বান: পতিত ফ্যাসিবাদ ও কমন শত্রুর অপচেষ্টা রুখতে বিরোধী দলগুলোকে জাতীয় স্বার্থে এক থাকার বার্তা।
- 🏛️ ঐতিহাসিক অবদান: ১৯৭৫-এর বাকশাল হটিয়ে শহীদ জিয়া কর্তৃক বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং ১৯৯১-এ বেগম খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
- 🩸 সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ: বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও লড়াইয়ে বিএনপি সবচেয়ে বেশি গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
- 🗳️ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব: গত ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনম্যান্ডেট পাওয়াকে ‘ক্ষমতা’ নয়, বরং দেশের সেবা ও ‘দায়িত্ব’ হিসেবে দেখার ঘোষণা।
কমন শত্রু ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে মহিলা দল এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলে আয়োজন করে। সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমাদের কোনো কাজ বা কথায় যেন পতিত স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সুবিধা না হয়। বিরোধীদের অহেতুক বিভাজন কোনো সুফল আনবে না। উন্নয়নকাজ ব্যাহত হলে সাধারণ শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ঐতিহাসিক ইতিহাস
দলের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে একদলীয় বাকশাল শাসন কায়েম করে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই বাকশালী শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে এরশাদ সামরিক স্বৈরশাসন কায়েম করলে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাকে বৈধতা দেয়। তবে বিএনপি জনগণের সঙ্গে বেইমানি না করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আপসহীন আন্দোলন চালিয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করে।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই ও বর্তমান দায়িত্ব
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এক-এগারোর মঈন-ফখরুদ্দিন সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসায়। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তারা ফ্যাসিবাদী শাসন চলায়। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপিই রাজপথে প্রধান লড়াই চালিয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে বিএনপির যত নেতাকর্মী শহীদ, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, দেশের আর সব রাজনৈতিক দল মিলেও তা হয়নি। দেশের জনগণ গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচিত করেছে। এই অর্জিত সাফল্য ভোগ করার ক্ষমতা নয়, বরং দেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্ব।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি ও বিএনপির অবস্থান
| ঐতিহাসিক সময়কাল | রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট | বিএনপির অবদান ও অবস্থান |
|---|---|---|
| ১৯৭৫ (জানুয়ারি) | সব দল বিলুপ্ত করে একদলীয় ‘বাকশাল’ গঠন। | শহীদ জিয়াউর রহমান কর্তৃক বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। |
| ১৯৮৬ (এরশাদ আমল) | আওয়ামী লীগ ও জামায়াত দ্বারা এরশাদ নির্বাচনকে বৈধতা প্রদান। | বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বর্জন ও আপসহীন সংগ্রাম। |
| ১৯৯১ (জনম্যান্ডেট) | স্বৈরাচার পতনের পর জাতীয় নির্বাচন। | সরকার গঠন ও সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন। |
| ২০০৭ – ২০২৪ | ১/১১ সরকার ও পরবর্তী ১৬ বছরের আওয়ামী শাসন। | তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ লড়াই ও হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ। |
| ২০২৬ (বর্তমান) | ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। | জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন। |
