![]()
নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি স্বীকৃতি, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে পরিচিত নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা। চিনামাটির পাহাড়, গারো পাহাড় এবং সোমেশ্বরী নদীর নীলাভ পানি এ অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। তবে পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এলাকাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনসম্ভাবনাময় এলাকা পরিদর্শনকালে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এসব কথা বলেন।
সরকারি স্বীকৃতি ও পরিকল্পিত উন্নয়নের উদ্যোগ
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুরকে পর্যটন নগরী হিসেবে অভিহিত করা হলেও সরকারি নথিপত্রে এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা যায়নি। এবার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, অতীতে এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাথর, বালু ও মাটি উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ এবং পর্যটন বিকাশের উপযোগী পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিগগিরই মন্ত্রী দুর্গাপুর পরিদর্শন করবেন। এর আগে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল এলাকায় গিয়ে পর্যটনের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করবে।
এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে এলাকার আকাশ থেকে ধারণ করা দৃশ্য বা এরিয়াল ভিউ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব তথ্য পর্যটন করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যায়।
কায়সার কামাল বলেন, কথার পরিবর্তে কাজের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করতে চান তাঁরা।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশের পরিকল্পনা
দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাকে আনুষ্ঠানিক পর্যটন এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানান ডেপুটি স্পিকার।
তবে শীত মৌসুমে এ অঞ্চলে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। এ সময় তাঁদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ভ্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটন পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণে গুরুত্ব
দুর্গাপুরের নীলাভ পানি ও সাদা চিনামাটির পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পাহাড়, নদী ও সমতলের অনন্য মেলবন্ধন দেখতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন।
তবে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি ও ছাউনি নির্মাণের কারণে কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তাঁর মতে, পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পর্যটন বিকাশে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পিত উন্নয়ন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলকে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিত করে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রিক পরিকল্পনার আওতায় দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্থানীয় কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।
এর ফলে স্থানীয় জনগণের জন্য আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাকে পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
