![]()
স্বাস্থ্য
হামের প্রাদুর্ভাবে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, এ বছর মোট মৃত্যু ১,১১৪
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শুক্রবার আরও অন্তত চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর নিশ্চিত ও সন্দেহজনক মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়াল ১,১১৪ জনে। দেশে ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যেই স্থানীয় গণমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই মৃত্যুগুলো রেকর্ড করা হয়।
“নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০২-তে অপরিবর্তিত থাকলেও সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১,০১২-তে দাঁড়িয়েছে।”
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার মৃত্যুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হামের কারণে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকি তিনজনকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০২-তে অপরিবর্তিত থাকলেও সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১,০১২-তে দাঁড়িয়েছে।
নতুন সংক্রমণের সংখ্যা
ডিজিএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১,২২১ জন, যা নিয়ে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৯৪,০৮৪। একই সময়ে নতুন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২১ জন, যা নিয়ে মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১,৬২৩।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
গত সপ্তাহে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পুনরুত্থানের কারণ হিসেবে আগের টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি এবং হাসপাতাল ও রোগী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আক্রান্ত শিশুদের দেরিতে শনাক্ত করা এবং বাড়িতে আলাদা না রাখা।
“টিকা দেওয়ার পর শিশুদের যথেষ্ট অনাক্রম্যতা তৈরি করতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগে। তাই সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর বর্তমান ঢেউ অন্তত আরও এক মাস চলতে পারে।” — মুশতাক হুসাইন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি স্টার’-কে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হুসাইন বলেন, টিকা দেওয়ার পর শিশুদের যথেষ্ট অনাক্রম্যতা তৈরি করতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগে। তিনি যোগ করেন, “তাই সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর বর্তমান ঢেউ অন্তত আরও এক মাস চলতে পারে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের অভিযোগ
সম্প্রতি একটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ২০২৬ সালের হামের প্রাদুর্ভাবকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা এই উদ্বেগ তুলে ধরেছে যে, টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।
কানাডাভিত্তিক গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স (জিসিডিজি) তাদের ‘প্রিভেন্টেবল ট্র্যাজেডি: বাংলাদেশ’স ২০২৬ মিজলস আউটব্রেক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানায়, জনসাধারণের কাছে হঠাৎ মনে হলেও “মহামারীবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে” এই প্রাদুর্ভাব অপ্রত্যাশিত ছিল না।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ সালে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকা সরবরাহ ও স্বাস্থ্য কার্যক্রমে ব্যাঘাত, নিয়মিত টিকাদান বাদ পড়া, নির্ধারিত সম্পূরক টিকাদান কার্যক্রম বাতিল, টিকা সংগ্রহের প্রশাসনিক বিলম্ব এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী দ্রুত শনাক্ত করতে ব্যর্থতার সমন্বিত ফলেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।
⚠️ N:B / দৃষ্টি আকর্ষণ
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইউএনবি-তে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জনস্বার্থে ও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদের মূল সূত্র এনডিটিভি (NDTV), ইউএনবি ও দ্য ডেইলি স্টার। এখানে উল্লেখিত পরিসংখ্যান, অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের নিজস্ব — যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। জিসিডিজি-র প্রতিবেদনের অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং ভিন্ন পক্ষ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। এখানে উপস্থাপিত তথ্য, মন্তব্য বা দাবির জন্য TouchBangladesh কোনোভাবেই দায়ী নয়। পাঠকদের অনুরোধ — স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং পূর্ণাঙ্গ ও যাচাইকৃত তথ্যের জন্য মূল সূত্র অনুসরণ করুন। কোনো আইনি অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে তা সরাসরি মূল প্রকাশকের কাছে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।
