![]()
দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি বিমানে ককপিটের ভেতরে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামির কুঠার নিয়ে হামলার ঘটনায় রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। আকস্মিক এই উগ্রবাদী আক্রমণের পর গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন নিজের শেষ শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দিলে কজন সাহসী যাত্রী ও অফ-ডিউটি পাইলটের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বিমানটি এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।
- ✈️ আক্রান্ত ফ্লাইট: গত বুধবারে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩ (Flydubai 1073)।
- 🪓 হামলার কৌশল: নামাজ পড়ার বাহানায় ককপিটে থাকা জরুরি কুঠার (Axe) দিয়ে ক্যাপ্টেনের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত।
- 🦸♂️ সাহসী উদ্ধারকাজ: রক্তাক্ত ক্যাপ্টেনের খোলা দরজা দিয়ে যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুনের প্রবেশ ও অফ-ডিউটি পাইলট কর্তৃক বিমানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ।
- ⚠️ গোয়েন্দা ব্যর্থতা: উগ্রবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে ওমান এয়ারে নিষিদ্ধ হামামির দুবাই-তেল আবিব রুটে উড্ডয়ন নিয়ে তোলপাড়।
ককপিটে কুঠার নিয়ে আক্রমণ ও ক্যাপ্টেনের জীবন বাজি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল ও ইসরাইলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়ন চলাকালে কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে জানান যে তিনি নামাজ পড়বেন। এর চার-পাঁচ মিনিট পরই ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে তিনি পেছন থেকে ক্যাপ্টেনের মাথায় অতর্কিত ও প্রচণ্ড আঘাত হানেন। দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে আসা সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার বুঝতে পারেন বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে খাড়া হয়ে নামছে। শেষ শক্তি প্রয়োগ করে তিনি ককপিটের দরজা আনলক করে খুলে দেন।
যাত্রীদের বীরত্ব ও অফ-ডিউটি পাইলটের বিমানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
ককপিটের দরজা খোলার পরপরই বাইরে থেকে ইয়ানিভ হায়ুন নামের এক যাত্রী দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়েন। তিনি দেখতে পান হামলাকারী কো-পাইলট কন্ট্রোল প্যানেলের ওপর ঝুঁকে পড়ে বিমানটিকে মাটির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। হায়ুন তাৎক্ষণিকভাবে হামামির গলা চেপে ধরে তাকে সরিয়ে দেন এবং অন্যান্য যাত্রীদের সহযোগিতায় তাকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। এরপর বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা একজন অফ-ডিউটি পাইলট দ্রুত ককপিটে প্রবেশ করে ফ্লাইটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে স্থিতিশীল করেন।
উগ্রবাদের ইতিহাস গোপন ও ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রশ্ন
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, চরমপন্থী উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কো-পাইলট হামাম আল-হামামিকে আগেই ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ‘ওমান এয়ার’ থেকে উড্ডয়নে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এই অতি সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়নি। ইসরাইলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা একে দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন, কারণ হামামি এর আগেও একাধিকবার দুবাই-তেল আবিব স্পর্শকাতর রুটে উড্ডয়ন পরিচালনা করেছিলেন। ঘটনার পর বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর পাইলটদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকিং ব্যবস্থা নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
ফ্লাইদুবাই ককপিট হামলার সারসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| ফ্লাইট ও রুট | ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩ (দুবাই ➔ তেল আবিব) |
| আক্রান্ত ও আক্রমণকারী | ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার (ভারতীয়) ও কো-পাইলট হামাম আল-হামামি (ওমানি) |
| ব্যবহৃত অস্ত্র ও উদ্দেশ্য | জরুরি ব্যবহারের কুঠার (Axe); বিমান খাড়া নামিয়ে ক্র্যাশ ঘটানোর চেষ্টা |
| উদ্ধারকারী ব্যক্তিবর্গ | যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন, অন্যান্য যাত্রী ও একজন অফ-ডিউটি পাইলট |
| পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ | আমিরাত প্রসেকিউশন কর্তৃক তদন্ত ও ইসরাইলে বিদেশি পাইলট নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনা |
