![]()
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের অগ্রগতি ঠেকাতে এবং দেশটির হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কাছে ৪টি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ বোঝাই করে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী এডেনে এই অস্ত্র প্রেরণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বহুজাতিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক মেরুকরণে ইসলামাবাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ আরও সুস্পষ্ট হলো।
- 📦 অস্ত্র সরবরাহ: আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি ভর্তি ৪টি সামরিক বিমান এডেনে পৌঁছায়।
- 🪖 সেনা সহায়তা: এডেনে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও রণকৌশলে সহযোগিতায় পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারা নিয়োজিত।
- 🤝 ‘মক্কা চুক্তি’: গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তবায়ন হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।
- 💥 সামরিক সংঘাত: ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি বিমান হামলা চালায় সৌদি জোট; মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তাইজ শহরের সেতু ধ্বংসকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তুঙ্গে।
এডেনে পাকিস্তানের অস্ত্র ও সামরিক উপদেষ্টাদের উপস্থিতি
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পাঠানো অস্ত্রের চালানে রয়েছে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, হামলাকারী ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী বিশেষ ব্যবস্থা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, কেবল অস্ত্র পাঠানোই নয়, পাকিস্তানের অভিজ্ঞ সামরিক উপদেষ্টারা বর্তমানে সৌদি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এডেনে অবস্থান করছেন এবং ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে সরাসরি সামরিক কৌশল পরিচালনায় সহায়তা করছেন।
মদিনায় ড্রোন হামলা বনাম সৌদির বিমান হামলা: উত্তপ্ত তাইজ সীমান্ত
সম্প্রতি পবিত্র নগরী মদিনার মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ‘তাইবাহ’ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন আঘাত হানার পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। রিয়াদ এই হামলার জন্য সরাসরি হুতিদের দায়ী করলেও তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে তাইজে সরকার নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ সেতু হুতিরা উড়িয়ে দেওয়ায় উত্তর দিক থেকে এডেনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জবাবে সৌদি আরব সানা, সাদা ও তাইজে ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়ে বড় ধরনের স্থল অভিযানের সংকেত দিয়েছে।
‘মক্কা চুক্তি’ ও আঞ্চলিক অক্ষের নতুন বাস্তবতা
গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’-র পর পাকিস্তানের এই সরাসরি সহায়তা চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি, রিয়াদ বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও সামরিক উপদেষ্টা পাঠালেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখনো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান স্পষ্ট করেনি। অন্যদিকে, হুতি সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরব উপসাগরীয় প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে শীর্ষ পর্যায়ে রিয়াদ সফর অনুষ্ঠিত করেছে।
ইয়েমেন সংকটে আন্তর্জাতিক সামরিক সমীকরণ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| অস্ত্র সরবরাহকারী ও প্রাপক | পাকিস্তান ➔ ইয়েমেন সরকার (এডেন কেন্দ্রিক) |
| রসদ ও সরঞ্জামের ধরন | আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি |
| যৌথ সামরিক চুক্তি | মক্কা চুক্তি (সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক) |
| মূল সংঘাতপূর্ণ এলাকা | তাইজ, সানা, সাদা ও লোহিত সাগর উপকূলীয় অঞ্চল |
