Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

১৭৮ টাকা মজুরিতে চলে সংসার, খাবারে চা-পাতার চাটনি

প্রতিবেদক
Touch Bangladesh News
অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

নিউজ প্রোভাইডার

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় চা শ্রমিকদের পথচলা। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে কেউ মাথায় ঝুড়ি, কেউ কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ছুটে যান চা বাগানে। চারদিকে সারি সারি সবুজ চা-গাছ। সেই সবুজের ভেতর কাঁচি হাতে কচি পাতা তোলেন নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা। দূর থেকে দৃশ্যটি মনোমুগ্ধকর। কিন্তু সবুজের আড়ালে লুকিয়ে আছে ক্ষুধা, অভাব আর বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম। ১৭৮ টাকা মজুরিতে চলে সংসার, দুপুরে জোটে চা-পাতার চাটনি।

দুপুর গড়ালে বাগানের কর্মব্যস্ততায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। কাজের ফাঁকে গাছের ছায়ায় বসে পড়েন শ্রমিকেরা। কারও পলিথিনে মুড়ি, কারও পাত্রে পান্তাভাত, আবার কারও সঙ্গে থাকে আটার মোটা রুটি। সেই রুটির সঙ্গে থাকে চা-পাতা দিয়ে তৈরি ঝাল এক খাবার, শ্রমিকদের ভাষায় ‘পাতিচখা’ বা ‘পাতা চাটনি’।

চা-গাছের কচি পাতা, কাঁচা মরিচ, রসুন-পেঁয়াজ, পোড়া আলু ও চানাচুর মিশিয়ে তৈরি হয় এই খাবার। কখনো কাঁচা, কখনো সামান্য ভেজে খাওয়া হয়। অভাবের সংসারে এটি শখের খাবার নয়; বরং অনেকের দুপুরের ক্ষুধা মেটানোর অন্যতম ভরসা। যে চা-পাতা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে, সেই পাতাই কখনো হয়ে ওঠে চা শ্রমিক পরিবারের ক্ষুধা নিবারণের উপকরণ।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী, চাম্পারায়, আলীনগর, পাত্রখোলা, মাধবপুর ও কুরমাসহ প্রায় প্রতিটি চা বাগানেই দুপুরে দেখা মেলে এই বাস্তবতার।

চা শ্রমিক গীতা মাদ্রাজী বলেন, ‘এ আর নতুন কী? এটা তো আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। অভাবের সংসারে চাল জোগাড় করাই যখন কঠিন, তখন ডাল-তরকারি আমাদের কাছে বিলাসিতা। এটা বানাতে বেশি টাকা লাগে না। রুটি বানাই, আর চায়ের কুঁড়ির সঙ্গে পোড়া আলু, চানাচুর ও কাঁচা মরিচ দিয়ে পাতিচখা তৈরি করে খাই। তাতেই দিন চলে যায়।’

নারী শ্রমিক সুর্মিলা কানু বলেন, ‘সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টায় কাজে আসি, বিকেল ৫টায় ছুটি। ঘরে ফিরে আবার ঘরের সব কাজ করতে হয়।’

আরেক শ্রমিক কমলা গোয়ালা বলেন, ‘বাগান থেকে ঘর দূরে হওয়ায় ভোরের আগেই ঘর ছাড়তে হয়। পায়ে হেঁটেই কাজে যোগ দিতে হয়। দিনভর পরিশ্রমের পর হাতে আসে ১৭৮ টাকা। নির্ধারিত পরিমাণ পাতা তুলতে না পারলে মজুরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

এই আয়ে সংসার চলে কি না জানতে চাইলে শ্রমিকেরা সমস্বরে বলেন, ‘না চললে কী করব? মালিক বা সরকার তো আর বেতন বাড়াবে না। আর কোনো কাজও নেই। তাই বাধ্য হয়েই এই কাজ করতে হয়।’

চা-পাতা তোলার কাজ বাইরে থেকে সহজ মনে হলেও, বাস্তবে ততটাই কঠিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝুঁকে কাজ করতে হয়। গরম, বৃষ্টি কিংবা কাদা—কিছুই তাঁদের শ্রম থামাতে পারে না। দীর্ঘ সময় কাজ করায় পা ফুলে যায়, হাতে পড়ে কড়া। তবু বিশ্রামের সুযোগ কম। কারণ, এক দিন কাজ বন্ধ থাকলে এক দিনের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।