![]()
ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহকদের জন্য ব্যক্তিগত ‘বাংলা কিউআর’ কোডের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক অন্যজনের কিউআর কোড স্ক্যান করেই সরাসরি তার ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবে টাকা পাঠাতে পারবেন।
রোববার (১ নভেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এই সেবার ফলে টাকা পাঠানোর সময় আর হিসাব নম্বর, রাউটিং নম্বর কিংবা মোবাইল নম্বর টাইপ করতে হবে না। এতে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি ভুল হিসাবে টাকা পাঠানোর ঝুঁকিও কমবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
যেভাবে সংগ্রহ করবেন ব্যক্তিগত কিউআর কোড
ব্যক্তিগত ‘বাংলা কিউআর’ কোড সংগ্রহের জন্য গ্রাহকদের আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে না। যে ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যবহার করছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের মোবাইল অ্যাপ থেকেই নিজের কিউআর কোড তৈরি করতে পারবেন।
এ জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ডাউনলোড বা আপডেট করতে হবে। এরপর অ্যাপের নির্ধারিত অপশন থেকে ব্যক্তিগত কিউআর কোড তৈরি করে তা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে।
এত দিন বাংলা কিউআর কোডের ব্যবহার মূলত দোকানে কেনাকাটা কিংবা বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন সুবিধার ফলে এখন ব্যক্তিগত ব্যাংক ও এমএফএস হিসাবের জন্যও কিউআর কোড ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি সরাসরি অন্য ব্যক্তির হিসাবে টাকা পাঠাতে পারবেন।
কিউআর কোড স্ক্যান করেই হবে লেনদেন
নতুন পদ্ধতিতে টাকা পাঠাতে প্রাপকের নাম, ব্যাংক হিসাব নম্বর বা মোবাইল নম্বর লিখতে হবে না। প্রাপক নিজের ফোনে কিউআর কোড দেখালে প্রেরক তার ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ দিয়ে সেটি স্ক্যান করবেন।
এরপর পর্দায় প্রদর্শিত প্রাপকের তথ্য যাচাই করে পিন নম্বর দিলেই সম্পন্ন হবে লেনদেন।
প্রাপক দূরে থাকলেও এই পদ্ধতিতে টাকা পাঠানো যাবে। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজের কিউআর কোডের ছবি বা স্ক্রিনশট পাঠাতে পারবেন। প্রেরক সংশ্লিষ্ট অ্যাপের গ্যালারি থেকে ছবিটি আপলোড করে একইভাবে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
ভুল হিসাবে টাকা যাওয়ার ঝুঁকি কমবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, কিউআর কোড স্ক্যান করার পর কিংবা গ্যালারি থেকে ছবি আপলোড করলে প্রাপকের নাম ও হিসাব নম্বরের সংক্ষিপ্ত তথ্য পর্দায় দেখা যাবে। ফলে লেনদেন সম্পন্ন করার আগেই প্রাপকের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হবে।
এতে ভুল ব্যক্তির হিসাবে টাকা চলে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জালিয়াতির ঝুঁকি কমাতেও নতুন এই ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে।
এই সেবা চালুর জন্য দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরকে (পিএসও) প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাপে কিউআর কোড তৈরি, স্ক্যান এবং গ্যালারি থেকে ছবি আপলোডের সুবিধা যুক্ত করার কথা ছিল।
নতুন ব্যবস্থায় লেনদেন নিষ্পত্তি হবে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।
ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যক্তিগত বাংলা কিউআর সেবা দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা সহজে, দ্রুত ও নিরাপদে একে অপরের হিসাবে অর্থ পাঠাতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, ব্যক্তিপর্যায়ে অর্থ স্থানান্তরের এই সুবিধা দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ টাকার ব্যবহার কমাবে। পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার এবং ক্যাশলেস লেনদেনের অভ্যাস গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যক্তিগত কিউআর কোডের ব্যবহার জনপ্রিয় হলে ব্যাংক ও এমএফএসের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর আরও সহজ হবে। এতে দেশের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
