![]()
নিউজ প্রোভাইডার
আসন্ন অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বছরে ৬ লাখ টাকার কম বেতন বাবদ আয় থাকলে (এক-তৃতীয়াংশ কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত হওয়ায়) তাঁদের আর কোনো আয়কর দিতে হবে না।
মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা রেহাই দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন বাজেটে রেয়াতের সীমা কমানো এবং সঞ্চয়পত্র, সরকারি সিকিউরিটিজ ও এফডিআরের সুদ থেকে কেটে নেওয়া উৎসে করকে চূড়ান্ত করের বদলে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় সাধারণ করদাতাদের ওপর করের সার্বিক বোঝা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলায় লাগছে না টিআইএন (TIN)
সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে দেশের অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে একটি বড় স্বস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন (TIN) জমার বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ বাতিল করা হচ্ছে। তবে শেয়ারবাজারের লভ্যাংশ আয়ের ওপর করের হার আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে নিয়মিত হারে কর পরিশোধ করে জমি বা ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য দেখানোর যে বিশেষ সুযোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, নতুন নিয়মে সেটিও বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও করের নতুন সমীকরণ
করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সাধারণ করদাতারা সরাসরি সুফল পাবেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষিত করহারে পরিবর্তন না আনা হলে ব্যবসা, কৃষি, বাড়ি ভাড়া বা অন্যান্য খাত থেকে উপার্জিত আয়ের ক্ষেত্রে মানুষকে বাড়তি কর দিতে হতে পারে।
এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এবার ন্যূনতম করহার ৫ শতাংশের পরিবর্তে বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সীমা ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং মেয়াদকাল পর্যন্ত তা ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করায় করের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রসঙ্গে
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেই করহার ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেই অনৈতিক এই কালো টাকা সাদা করার সুযোগটি পুরোপুরি বাতিল করে দেয়।
