![]()
বন্যাদুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা ও ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখার ওপর তিনি সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। আজ সচিবালয়ে এক press briefing-এ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান এই তথ্য জানান। মাঠ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি দুর্গত ও দুর্গম এলাকার মানুষের মানবিক চাহিদা পূরণে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাঠ প্রশাসনকে সতর্কবার্তা ও চিকিৎসায় অগ্রাধিকার
রবিবার বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, ডিসি, এসপিসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। তিনি দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য এবং জরুরি ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলেছেন। নারী, শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১১টি বন্যাকবলিত জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি সিভিল প্রশাসনকে ত্রাণকাজে সহায়তা করছে।
বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি
তথ্য উপদেষ্টা জানান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ—এই ৭টি জেলার ৫৯টি উপজেলার ৩৪৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪-তে দাঁড়িয়েছে। দুর্গতদের জন্য ১,০৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কন্ট্রোল রুম খুলেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ১,৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
- 🐍 অ্যান্টিভেনম: তৃণমূল পর্যায়ে ২১,০০০ এবং কেন্দ্রীয় মজুতে ১,০০০ অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন প্রস্তুত রয়েছে। পাহাড়ি ও নদীমাতৃক এলাকায় সাপের উপদ্রব মোকাবিলায় এই প্রস্তুতি।
- 💧 স্যালাইন ও ওষুধ: ৭৫.৯ লাখ প্যাকেট খাবার স্যালাইন, ৩.৯৯ লাখ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন, ৩৬.২ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং ১.১৯ লাখ ডেঙ্গু কিট মজুত আছে।
- 🌾 খাদ্য মজুত: দেশের সরকারি গুদামগুলোতে রেকর্ড ২৩ লাখ ২৬ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
জরুরি সাড়া ও মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি শতভাগ নিশ্চিত করে ডা. জাহিদ বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।” বিশেষ মেডিকেল টিমগুলো দিনরাত বন্যাকবলিত এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বর্তমানে সরাসরি উপদ্বুত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।
বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারি প্রস্তুতির পরিসংখ্যান (২০২৬)
| বিবরণ | পরিমাণ / সংখ্যা | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| ক্ষতিগ্রস্ত জেলা ও উপজেলা | ৭টি জেলা (৫৯টি উপজেলা) | ৩৪৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত |
| পানিবন্দি মানুষ | প্রায় ৭,০০,০০০ জন | ১,০৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা |
| মোট প্রাণহানি | ৫৪ জন | উদ্ধারকাজ চলমান |
| অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন মজুত | ২২,০০০ ডোজ | তৃণমূল ও কেন্দ্র প্রস্তুত |
| মোট সরকারি খাদ্য মজুত 🇧🇩 | ২৩,২৬,১৬০ মে. টন | রেকর্ড মজুত |
