Touch Bangladesh
ঢাকামঙ্গলবার , ২৫ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ভূমি অবক্ষয় রোধে নিষ্ক্রিয়তার মূল্য বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার

প্রতিবেদক
Louis Daru
আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

জলবায়ু ও পরিবেশ | জাতিসংঘ

ভূমি অবক্ষয় রোধে নিষ্ক্রিয়তার মূল্য বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘের উপপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক | TouchBangladesh
২৫ আগস্ট, ২০২৬

ভূমি অবক্ষয় রোধে দেশগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম অর্থ ব্যয় করছে, অথচ নিষ্ক্রিয় থাকার অর্থনৈতিক মূল্য প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকছে। মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে জাতিসংঘের মরুকরণ রোধসংক্রান্ত কনভেনশনের (UNCCD) এক বড় সম্মেলনে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের উপ-সেক্রেটারি-জেনারেল আমিনা মোহাম্মদ।

জাতিসংঘের সম্মেলনের মূল বার্তা

  • 📉 অবক্ষয়ের মাত্রা: বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ভূমি বর্তমানে অবক্ষয়ের শিকার।
  • 💸 বিনিয়োগের ঘাটতি: বার্ষিক প্রয়োজন ৩৩৫ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে বিনিয়োগ মাত্র ৭৭ বিলিয়ন ডলার।
  • 🛑 নিষ্ক্রিয়তার মূল্য: কোনো পদক্ষেপ না নিলে বছরে অন্তত ৮৭৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়।
  • 📈 প্রত্যাবর্তিত লাভ: ভূমি পুনরুদ্ধারে প্রতি ১ ডলারে ৭ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত সুফল পাওয়া সম্ভব।

খাদ্য উৎপাদন ও জীবনযাত্রার ওপর তীব্র সংকট

মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে ইউএনসিসিসিডি (UNCCD)-এর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আমিনা মোহাম্মদ বলেন, শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু পুনরুদ্ধার প্রকল্পে সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারগুলোকে জাতীয় পরিকল্পনাগুলো কার্যকর করতে হবে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ শতাংশ ভূমি আজ অবক্ষয়ের শিকার, যার ফলে খাদ্য উৎপাদন ও মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া ২০০০ সাল থেকে খরা পরিস্থিতির হার ও স্থায়িত্ব ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি চারজনে তিনজন মানুষ এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

একনজরে: ভূমি পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগের ব্যবধান

আর্থিক সূচক পরিমাণ / বিবরণ (বার্ষিক)
প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ৩৩৫ বিলিয়ন ডলার
বর্তমান ট্রেন্ডে বিনিয়োগ মাত্র ৭৭ বিলিয়ন ডলার
নিষ্ক্রিয়তার মূল্য (ক্ষতি) কমপক্ষে ৮৭৮ বিলিয়ন ডলার
পুনরুদ্ধারের সম্ভাব্য সুফল প্রায় ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার

“সুস্থ ভূমি কোনো পরিবেশগত বিলাসিতা নয়, এটি উৎপাদনশীল পুঁজি”

সম্মেলনের ‘সিওপি১৭’ (COP17) এর অর্থায়ন বিষয়ক এক ইভেন্টে আমিনা মোহাম্মদ বলেন, “সুস্থ ভূমি কোনো পরিবেশগত বিলাসিতা নয়। এটি উৎপাদনশীল পুঁজি… মাটি হলো অবকাঠামো, জলাশয়গুলো অবকাঠামো এবং তৃণভূমি হলো উৎপাদনশীল সম্পদ।” ভূমি অবক্ষয় কৃষক ও রাখালদের আয় কমিয়ে দেয়, খাদ্যমূল্য বাড়িয়ে দেয় এবং পানি ও জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। খরা পরিস্থিতি সরকারকে জরুরি সহায়তা ও ভর্তুকি প্রদানে বাধ্য করে, ফলে রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণের বোঝা তৈরি হয়।

আফ্রিকার ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ ও মানুষের ক্ষমতায়ন

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আফ্রিকার ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ উদ্যোগকে একটি বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০ মিলিয়নের বেশি হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে নাইজারের কৃষকরাই ৫ মিলিয়ন হেক্টর ভূমি পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এছাড়া আমিনা মোহাম্মদ জোর দিয়ে বলেন যে, যেসব কৃষক ও পশুপালক সরাসরি জমির ব্যবস্থাপনায় যুক্ত, পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকতে হবে। ভূমি পুনরুদ্ধার সরাসরি সংঘাত দূর না করলেও এটি মানুষকে তাদের জীবিকা ও শান্তির সাথে যুক্ত করতে সহায়তা করে।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।