![]()
বদলে যাবে ঢাকার চিত্র: ২০৩০ সালের মধ্যে ৬টি মেট্রো লাইন চালুর মহাপরিকল্পনা, কোন রুটে কোথায় স্টেশন?
ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোরেল (MRT) নেটওয়ার্ক ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সরকারের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (Strategic Transport Plan) অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজধানীতে মোট ৬টি মেট্রোরেল লাইন চালুর মহাপরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (DMTCL) এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (DTCA) এই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমানে চালু থাকা উত্তরা-মতিঝিল (MRT Line-6) লাইনের পাশাপাশি নতুন রুটগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন ও মাঠপর্যায়ের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
- 🚇 লাইন-৬ সম্প্রসারণ: উত্তরা-মতিঝিল রুটটি ১.১৬ কিমি বাড়িয়ে কমলাপুর পর্যন্ত নেওয়ার কাজ চলছে, যার ৭৭% সম্পন্ন। চালু হবে ২০২৭ সালের এপ্রিলে।
- 🏗️ মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু: এমআরটি লাইন-১ এবং লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ চলমান।
- 🗺️ নতুন প্রস্তাবনা: সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (URSTP) নতুন লাইন-৩ এবং ৮ প্রস্তাব করা হয়েছে।
- ✅ বাস্তবতা: এই রুটগুলো কাল্পনিক নয়, শতভাগ সরকারি মহাপরিকল্পনার অংশ যা ধাপে ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
এমআরটি লাইন-২: গাবতলী থেকে ডেমরা হয়ে সদরঘাট-নারায়ণগঞ্জ
সম্প্রতি এই রুটের সংশোধিত অ্যালাইনমেন্ট এবং চূড়ান্ত নকশা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি মূলত গাবতলী থেকে শুরু হয়ে ঢাকা উদ্যান, বসিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ ও কাজলা হয়ে ডেমরার তারাবো বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাবে।
শাখা লাইন: এই রুটের একটি অংশ গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত এবং আরেকটি অংশ কমলাপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। রুটটি বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থায়নের উৎস খোঁজার পর্যায়ে রয়েছে।
এমআরটি লাইন-১: দেশের প্রথম পাতাল ও উড়াল মেট্রো
এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম সম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ বা পাতাল রেল (এয়ারপোর্ট অংশ) এবং উড়াল রেলের সমন্বিত রুট। মেগা প্রজেক্ট হওয়ায় এর কাজ শেষ হতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। লাইন-১ এর দুটি অংশ রয়েছে:
১. এয়ারপোর্ট রুট (পাতাল): বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে খিলক্ষেত, কুড়িল, বাড্ডা, রামপুরা, মৌচাক ও রাজারবাগ হয়ে কমলাপুর রেল স্টেশন।
২. পূর্বাচল রুট (উড়াল): নতুন বাজার স্টেশন থেকে ব্রাঞ্চ আউট হয়ে কুড়িল, বসুন্ধরা ও মস্তুল হয়ে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত।
এমআরটি লাইন-৫: পূর্ব-পশ্চিমের সেতুবন্ধন
ঢাকা শহরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের সংযোগ বাড়াতে এই লাইনটি দুটি ভাগে নির্মিত হচ্ছে:
নর্দার্ন রুট (কাজ চলমান): সাভারের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে গাবতলী, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত, বনানী হয়ে ভাটারা পর্যন্ত যাবে। হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
সাউদার্ন রুট (পরিকল্পনা পর্যায়ে): গাবতলী থেকে শুরু হয়ে কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদ গেট, রাসেল স্কয়ার, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
একনজরে মেট্রোরেল রুটগুলোর বর্তমান অবস্থা
| লাইনের নাম | রুট বা গন্তব্য | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| এমআরটি লাইন-৬ | উত্তরা থেকে মতিঝিল (কমলাপুর বর্ধিত অংশ) | মতিঝিল পর্যন্ত চালু, কমলাপুর অংশের কাজ ৭৭% শেষ |
| এমআরটি লাইন-১ ও ৫ (নর্দার্ন) | এয়ারপোর্ট/পূর্বাচল এবং হেমায়েতপুর-ভাটারা | মাঠপর্যায়ে নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়ন শুরু |
| এমআরটি লাইন-২ ও ৫ (সাউদার্ন) | গাবতলী-ডেমরা এবং গাবতলী-দাশেরকান্দি | স্টেশন চূড়ান্ত, সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থায়ন খোঁজা চলছে |
| লাইন-৩ এবং ৮ | নতুন সংশোধিত রুট (মনোরেল সুবিধাসহ) | URSTP-তে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবিত |
পরিশেষে বলা যায়, ইন্টারনেটে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ম্যাপ বা রুটগুলো কোনো কাল্পনিক নকশা নয়, এগুলো সম্পূর্ণ সরকারি ও অফিশিয়াল মাস্টারপ্ল্যান। বড় মেগা প্রজেক্ট হওয়ায় এগুলোর বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। বর্তমানে শুধু লাইন-৬ (উত্তরা-মতিঝিল) চালু থাকলেও, বাকি লাইনগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রস্তুত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
