![]()
জেমস আব্দুর রহিম রানা
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা ও উত্তরপত্র সংশোধনের অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকাসহ দুইজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন এবং প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন। বর্তমানে তাদের শার্শা থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি ঝিকরগাছার বিকেএস কুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী হলেও পরীক্ষা দিচ্ছিলেন বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা শেষে গোপনে মেয়ের উত্তরপত্রে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে উত্তর সংশোধন করে দেন প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন স্কুলের আয়া ফাতেমা খাতুন।
ঘটনাটি কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের সময় দায়িত্বরত মনিটরিং টিমের নজরে আসে। পরে তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে। এ সময় আটক ফাতেমা খাতুনের কাছ থেকে নকল সংশ্লিষ্ট কিছু সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ গাউসুল আজম, হল সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান, সদস্য মো. আব্দুস সালাম ও মহেন্দ্রনাথ ধরের দায়িত্বে অবহেলা এবং স্বজনপ্রীতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার এম নূরুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি জানার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এজন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
ঘটনার পর পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
