Touch Bangladesh
ঢাকারবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

পরিচয় মুছতে নৃশংসতা: ড্রাম ও কার্টনে খণ্ডিত মরদেহ, তদন্তে ফরেনসিক

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

ত্যা করার পর পরিচয় মুছে ফেলা, আলামত নষ্ট করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতেই মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুমের নৃশংস কৌশল বেছে নিচ্ছে অপরাধীরা। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে মফস্বল শহর—কখনো প্লাস্টিকের ড্রাম, বস্তা, ব্যাগ কিংবা পলিথিনের প্যাকেটে ভরে ড্রেন, খাল কিংবা মহাসড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হচ্ছে খণ্ডিত অঙ্গপ্রতঙ্গ। গত এক বছরে দেশে অন্তত এক ডজন এমন নৃশংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক নৃসংশ ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণ

  • 🛑 আদাবর ও মধুখালীর ঘটনা: গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদাবরের খাল থেকে ব্যাগে ভরা নারীর মরদেহ এবং ফরিদপুরের মধুখালীতে মহাসড়কের পাশে ৩টি কার্টন থেকে এক ব্যক্তির ৬ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
  • 🩸 ভয়াবহ টুকরো ঘটনা: শাহবাগে দুটি ড্রামে ব্যবসায়ী আশরাফুলের ২৬ টুকরা মরদেহ, ডেমরায় ১০ টুকরা, ফুলবাড়িয়ায় ১৫ টুকরা এবং দেবীদ্বারে ৯ প্যাকেটে মরদেহ ফেলার চিত্র উন্মোচিত হয়েছে।
  • 🔍 অপরাধীদের মূল লক্ষ্য: নিহতের পরিচয় গোপন রাখা, আলামত ধ্বংস করা এবং পুলিশি তদন্তকে ভিন্ন খাতে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া।
  • 🧬 তদন্তে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান: খণ্ডিত অংশ ফেলে অপরাধীরা পার পাওয়ার চিন্তা করলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ডিএনএ, সিসিটিভি ফুটেজ ও ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করছে পুলিশ।

রাজধানী থেকে জেলা শহর: মরদেহের খণ্ডিত অংশের লোমহর্ষক তালিকা

পুলিশি তথ্য ও প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একের পর এক এমন ঘটনা দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। শাহবাগে ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যার পর ২৬ টুকরা করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়া এবং ডেমরায় আলী হোসেনের মরদেহ ১০ টুকরা করে খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মী রাকিব রায়হানের মরদেহ ১৫ টুকরা করে ব্যাগে ভরা হয়। এছাড়া কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিনের দেহ ৯টি পলিথিনের প্যাকেটে এবং ফরিদপুরের সালথায় জামু ফকিরের হাত-পা বিচ্ছিন্ন মরদেহ মহাসড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

অপরাধীদের ভ্রান্ত ধারণা বনাম আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, অপরাধীরা ভাবে মরদেহ খণ্ডিত করে ছিটিয়ে দিলে পরিচয় কখনো শনাক্ত সম্ভব হবে না। কিন্তু আধুনিক তদন্ত ব্যবস্থায় কেবল একটি আঙুলের ছাপ, সিসিটিভির কয়েক সেকেন্ডের ফুটেজ কিংবা টিস্যুর ডিএনএ টেস্ট দিয়েই নিহতের পরিচয় ও হত্যাকারীকে দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। আদাবর ও মধুখালীর সর্বশেষ ঘটনায় পিবিআইসহ অন্যান্য একাধিক ইউনিট প্রযুক্তির সাহায্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।

সাম্প্রতিক কিছু খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের সংক্ষিপ্ত চিত্র

ঘটনার স্থান ভুক্তভোগী / পরিচয় গুমের মাধ্যম ও টুকরার সংখ্যা
আদাবর (ঢাকা) অজ্ঞাত নারী কালো ব্যাগে ভরা খণ্ডিত অংশ (হাক্কার মোড় খাল)
মধুখালী (ফরিদপুর) অজ্ঞাত পুরুষ (বয়স ৪৫-৫০) ৩টি কার্টনে ৬ টুকরা মরদেহ
শাহবাগ (ঢাকা) আশরাফুল হক (ব্যবসায়ী) ২টি ড্রামে ২৬ টুকরা মরদেহ
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) রাকিব রায়হান (কাস্টমস কর্মী) ৩টি ব্যাগ ও পোটলায় ১৫ টুকরা মরদেহ
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) ফরিদা ইয়াসমিন ৯টি পলিথিনের প্যাকেটে উদ্ধার

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।