![]()
ক্লান্তি, দুর্বলতা ও হাত-পায়ে ঝিনঝিনি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ
চুল পড়া নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে বয়স হওয়ার আগেই চুল পেকে বা সাদা হয়ে যেতে দেখা যায়। চুলের এমন পরিবর্তনের পেছনে জেনেটিক ও বয়সজনিত কারণের পাশাপাশি শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত চুল পড়ার কারণ হিসেবে মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব কিংবা আয়রনের ঘাটতির কথা বেশি আলোচিত হয়। তবে শরীরে প্রয়োজনীয় অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি বলেন, অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়তে থাকলে শরীরে ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা পরীক্ষা করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
চুলের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বি১২
ভিটামিন বি১২ শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরির পাশাপাশি স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। শরীর নিজে থেকে ভিটামিন বি১২ তৈরি করতে পারে না। তাই খাবার কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে এটি গ্রহণ করতে হয়।
মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। যারা প্রাণিজ খাবার খুব কম খান বা একেবারেই খান না, তাদের ক্ষেত্রে বি১২-এর ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
বি১২ কমে গেলে চুলে কী প্রভাব পড়ে
চুলের ফলিকলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানো চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখায় এর ঘাটতি হলে পরোক্ষভাবে চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে।
ডা. কুনাল সুদের মতে, ভিটামিন বি১২-এর কম মাত্রার সঙ্গে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে চুলের পরিবর্তনের সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে চুল পেকে যাওয়ার অর্থই বি১২-এর ঘাটতি—এমনটা নয়। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে চুল পাকার পেছনে জেনেটিক ও বয়সজনিত কারণই প্রধান।
তাই শরীরে বি১২-এর মাত্রা স্বাভাবিক থাকার পরও অতিরিক্ত বি১২ গ্রহণ করলে সাদা চুল আবার কালো হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
শুধু চুলের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না
চুল পড়া বা অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়াকে একা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির লক্ষণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এর সঙ্গে শরীরে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাবের মতো উপসর্গ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। চুলের সমস্যার পাশাপাশি এসব উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
নিজের ইচ্ছায় সাপ্লিমেন্ট নয়
চুল পড়তে শুরু করলেই নিজের ইচ্ছায় ভিটামিন বি১২ কিংবা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ চুল পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। জেনেটিক কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ, অসুস্থতা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া কিংবা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও চুল পড়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
তাই চুল পড়া বা অল্প বয়সে চুল পাকার সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা যাচাই করা যেতে পারে।
