![]()
ভারতের মুম্বাই শহরের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে শৈশবে দত্তক নেওয়া এবং নেদারল্যান্ডসে বড় হওয়া দুই নারী জীবনের চল্লিশ বছর পার করে জানতে পেরেছেন তারা আসলে রক্তের আপন দুই বোন। শৈশব থেকে গভীর বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকা এই দুই নারী বছরের পর বছর পরস্পরকে ঠাট্টা করে ‘সিস’ বা বোন বলে ডাকতেন, যা শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে।
- 👶 শৈশবের বিচ্ছেদ: ১৯৮০-র দশকের শুরুতে মুম্বাইয়ের দুটি ভিন্ন এতিমখানা থেকে মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টাইসেনকে ডাচ দম্পতিরা দত্তক নেন।
- 👭 কৈশোরে প্রথম দেখা: দত্তক সংস্থার এক অনুষ্ঠানে কৈশোরে প্রথম দেখাতেই দুজনের মুখের অবয়ব, নাক ও হাসির অদ্ভুত মিল দেখে বন্ধু ও তারা নিজেরা চমকে যান।
- ✉️ চিঠির মাধ্যমে আত্মিক টান: দীর্ঘ বছর ধরে তারা একে অপরকে ‘সিস’ সম্বোধন করে চিঠি লিখতেন; তবে ১৫ বছর আগে সাময়িকভাবে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- 🧬 ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উন্মোচন: ২০২৬ সালে করা ডিএনএ টেস্টে ১০০% মিল পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে যে তাদের জন্মদাত্রী মা এবং বাবা একই ব্যক্তি।
কৈশোরের প্রথম দেখা ও গভীর আত্মিক মেলবন্ধন
বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী মীনা এবং ৪৪ বছর বয়সী মিনাল নেদারল্যান্ডসের ভিন্ন পরিবারে বড় হন। কৈশোরে দত্তক সংস্থার এক নৈশভোজে তাদের প্রথম দেখা হয়। প্রথম দেখাতেই বন্ধুরা দুজনের চেহারার অভিন্নতা দেখে আয়নায় মুখ মেলাতে বলেন। এরপর থেকেই শুরু হয় চিঠি লেখালেখি। একই ব্যান্ডের গান পছন্দ করা থেকে শুরু করে জীবনের টুকিটাকি সুখ-দুঃখের কথা তারা চিঠিতে বিনিময় করতেন। ১৫ বছর আগে পরিবার ও ব্যস্ততার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও তাদের হৃদয়ের অনুভূতি ঠিকই বজায় ছিল।
ডিএনএ ম্যাচ ও শিকড়ে ফেরার যৌথ স্বপ্ন
চলতি বছরের এপ্রিলে নেদারল্যান্ডসে এসে মিনাল ডিএনএ টেস্ট করান এবং মে মাসে মীনাকে ফেসবুকে মেসেজ পাঠান। মীনা তার ডিএনএ অ্যাপে লগ-ইন করে দেখতে পান, দুইজনের জিনগত মিল শতভাগ। অর্থাৎ তারা একই মা-বাবার সন্তান। গত আগস্টে আনন্দাশ্রু আর আলিঙ্গনের মাধ্যমে বোন হিসেবে প্রথমবার মুখোমুখি হন তারা। এখন তাদের একমাত্র স্বপ্ন—দুই বোন একসাথে ভারতে ফিরে মুম্বাইয়ের সেই পুরোনো গলিপথে হাঁটবেন, যেখান থেকে তাদের জীবনের সূচনা হয়েছিল।
দুই বোনের জীবনের ঘটনাপঞ্জি
| সূচক / বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| দুই বোনের নাম | মীনা গেলটিঙ্ক (৪৩) ও মিনাল টাইসেন (৪৪) |
| জন্মস্থান ও দত্তক সময় | মুম্বাই, ভারত (১৯৮০-র দশকের সূচনা) |
| বর্তমান বাসস্থান | মীনা (নেদারল্যান্ডস) এবং মিনাল (ফ্রান্স) |
| সত্য উন্মোচনের মাধ্যম | অনলাইন ডিএনএ ডেটাবেজ ও জেনেটিক ম্যাচিং (মে ২০২৬) |
| ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা | একসাথে ভারতের মুম্বাই সফর ও জন্মস্থানের স্মৃতি রোমন্থন |
