![]()
বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষ ও ভাষা শিক্ষায় পারদর্শী করতে এক হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের অধীনে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বিদেশগামীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করবে, যার সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ শতাংশ। তবে ভাষা শিক্ষার পেছনে ১০ লাখ টাকার মোটা অঙ্কের ঋণ প্রদান এবং এর সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসন খাত বিশেষজ্ঞরা।
- 💰 তহবিলের আকার ও শর্ত: বাংলাদেশ ব্যাংক সরবরাহ করবে ১,০০০ কোটি টাকা; সুদের হার ৯% এবং সর্বোচ্চ ঋণ ১০ লাখ টাকা।
- 🗣️ মূল উদ্দেশ্য: বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের কাজের দেশের বেসিক ল্যাঙ্গুয়েজ বা মৌলিক ভাষা শিক্ষার ফি প্রদান।
- 🇯🇵 জাপান গমনাচ্ছুদের বিশেষ সুবিধা: জামানত ছাড়াই (Collateral-free) মিলবে ঋণ; টিউশন ফি সরাসরি পাঠানো হবে জাপানের ভাষা শিক্ষা কলেজে।
- ⚠️ বিশেষজ্ঞদের সংশয়: শুধু ভাষা শিক্ষার পেছনে ১০ লাখ টাকার সীমা অতিরিক্ত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা, যেখানে পুরো অভিবাসন খরচেও এত টাকা লাগে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সমঝোতা
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপত্র আরিফ হোসেন জানান, সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১,০০০ কোটি টাকার তহবিল পাবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। যেসব দেশে বাংলাদেশের নতুন কর্মী যাবে, তাদের বেসিক ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার ব্যয় বহন করতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা ও ঋণের উর্ধ্বসীমা নিয়ে প্রশ্ন
অর্থনীতিবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই উদ্যোগের সঠিক ব্যবহার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপার্সন এম এস শেকিল চৌধুরী প্রশ্ন তুলে বলেন, “ভাষা শিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা কেন লাগবে? বিদেশ যাওয়ার পুরো প্রসেসেই তো এত টাকা লাগার কথা না। উচ্চ সীমা দিলে অনায়াসে ১০ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, তাই এটিকে বাস্তবসম্মত সীমার মধ্যে আনা উচিত।”
কঠিন শর্ত ও সরাসরি ফি পরিশোধের নিয়ম
বিশেষজ্ঞদের এমন সমালোচনার জবাবে ঋণের অপব্যবহার রোধে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগম ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “জাপানে গমনেচ্ছুদের ক্ষেত্রে জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তবে এই টাকা ব্যক্তির হাতে বা ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে যাবে না; বরং জাপানের যে প্রতিষ্ঠানে সে ভাষা শিক্ষার জন্য ভর্তি হবে, সেখানে ব্যাংক সরাসরি টিউশন ফি ট্রান্সফার করবে।” ভাষা শিক্ষা ছাড়াও নিজস্ব নিয়ম মেনে অভিবাসন খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে এ তহবিল ব্যবহার করা যাবে।
বিশেষ ঋণ তহবিলের মূল সমীকরণ
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান | বাংলাদেশ ব্যাংক (পুনঃঅর্থায়ন/বিশেষ তহবিল) |
| বাস্তবায়নকারী ব্যাংক | প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) |
| মোট তহবিলের পরিমাণ | ১,০০০ কোটি টাকা |
| সর্বোচ্চ ঋণসীমা ও সুদ | সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা (প্রতিজন) | সুদের হার ৯% |
| মূল ব্যবহার ক্ষেত্র | বিদেশগামীদের বেসিক ভাষা শেখা (যেমন: জাপান ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স) ও অভিবাসন উন্নয়ন |
| অর্থ প্রদানের পদ্ধতি | জামানতহীন; ফি সরাসরি বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রেরিত হবে |
