![]()
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এফএসআরইউ টার্মিনালে দুর্ঘটনার প্রায় দুই মাস পর দেশে এলএনজি সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও গ্যাসের সার্বিক সংকট কাটছে না। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘পস্কো’ থেকে আসা নতুন কার্গো যুক্ত হওয়ায় সরবরাহ বৃদ্ধি পেলেও জাতীয় গ্রিডে বড় অঙ্কের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
গতকাল সোমবার রাত ১০টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৮ কোটি ۲۰ লাখ ঘনফুটে, যা আজ মঙ্গলবার থেকে শিল্প ও বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়াতে পারে। তবে বিদ্যুৎ, সিএনজি ও সার কারখানায় তীব্র ঘাটতি অপরিবর্তিত থাকছে।
দুর্ঘটনা ও বর্তমান সরবরাহের চিত্র
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ মেরামতের পর গত ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি প্রস্তুত হলেও পর্যাপ্ত এলএনজি কার্গো না থাকায় সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
-
মোট দৈনিক চাহিদা: প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট।
-
বর্তমান সরবরাহ: ২৫৮ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট (দেশীয় উৎস থেকে ১৬০.২ কোটি ও এলএনজি থেকে ৯৮ কোটি)।
-
ঘাটতির পরিমাণ: দৈনিক প্রায় ১২৫ কোটি ঘনফুট।
-
উৎপাদন হ্রাস: দুর্ঘটনার আগের তুলনায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকেও প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট উৎপাদন কমেছে।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দুটি টার্মিনালই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা হয়েছে। এর ফলে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।
খাতভিত্তিক প্রভাব ও সংকট
-
শিল্প ও আবাসিক: আজ থেকে সরবরাহ ৯০-৯৫ কোটি ঘনফুট থেকে বেড়ে ১৪০-১৪৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শিল্পকারখানা এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ বাড়তে পারে।
-
বিদ্যুৎ খাত: বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে দেওয়া হচ্ছে ৮৫-৯০ কোটি ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে।
-
সিএনজি ও সার কারখানা: সিএনজি খাতে ১২-১৩ কোটি ঘনফুট চাহিদার জায়গায় দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪-৫ কোটি ঘনফুট। সার কারখানায় ৩৩ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মিলছে ১৫ কোটি ঘনফুট, ফলে ঘাটতি থাকছে ১৮ কোটি ঘনফুট।
চলতি মাসের এলএনজি পরিকল্পনা
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৯টি এলএনজি কার্গো আসার সূচি রয়েছে। ইতোমধ্যেই আরামকো, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর চারটি কার্গো দেশে পৌঁছেছে। বাকি পাঁচটি কার্গো চলতি মাসের ১৬ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে ক্রমান্বয়ে আসার কথা রয়েছে।
