![]()
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাহিনীপ্রধান আহসান হাবীব পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসআরবি নামে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে এবং বুধবার থেকেই নতুন নামে সব ধরনের দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
- 🛡️ নতুন পরিচয়: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত র্যাব, স্থলাভিষিক্ত হলো ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি)।
- 📜 আইনি আইনি অনুমোদন: ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাস এবং ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি রূপ পায়।
- 🎨 লোগো ও ব্যানার: লোগোর মূল নকশা অপরিবর্তিত রেখে তাতে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা যুক্ত করা হয়েছে।
- ⚖️ সংস্কারের পটভূমি: ২০০৪ সালে গঠিত এ বাহিনীর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কারের সুবাদেই এ ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
লোগো ও আমন্ত্রণপত্রে এসআরবি-র ছাঁপ
নতুন পরিচিতির এ পরিবর্তন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নাম ঘোষণার পর থেকে বাহিনীর বিভিন্ন সংবাদ সংজ্ঞাপ্তি ও আমন্ত্রণপত্রে র্যাবের পরিবর্তে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে লোগোর প্রাথমিক দৃশ্যমান নকশায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি। বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও নতুন পরিচয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রচার শুরু করেছে।
সংসদে বিল পাস থেকে প্রজ্ঞাপন জারি
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের আইনটি পাস হয়। এরপর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত গেজেট ও প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন পুলিশ ইউনিটের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনের পরদিনই (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন নামের ব্যানারে সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে এসআরবি।
২০০৪ থেকে ২০২৬: বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা ও সংস্কারের ইতিহাস
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এলিট ফোর্স হিসেবে র্যাব গঠিত হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বাহিনীটি ভূমিকা রাখলেও পরবর্তীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়ে।
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং এর সাবেক-বর্তমান সাত শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর অর্থনৈতিক ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে র্যাব বিলুপ্তির দাবি আরও জোরালো হয়। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপি গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কারবিষয়ক কমিটিও আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ ও সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই অবশেষে র্যাবের পুরোনো কাঠামোর অবসান ঘটিয়ে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠন করা হলো।
র্যাব ও এসআরবি (SRB)-র তুলনামূলক তথ্য তালিকা
| বিষয়/প্যারামিটার | পূর্ববর্তী রূপ (র্যাব) | বর্তমান রূপ (এসআরবি) |
|---|---|---|
| পূর্ণরূপ | র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) | স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB) |
| প্রতিষ্ঠা/কার্যক্রমের সময় | ২৬ মার্চ ২০০৪ | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এলিট বাহিনী) | বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তর |
| আইনি অনুমোদন | ২০০৪ সালের বিশেষ অধ্যাদেশ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাসকৃত বিল ও ১৫ সেপ্টেম্বর গেজেট |
