![]()
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপে আনুষ্ঠানিকভাবে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে খননকাজ শেষে কূপে স্থাপন করা পাইপের মুখে শিখা জ্বালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শুভ বার্তা প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস তুলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
- 📍 অবস্থান: সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রাম।
- ⛏️ খননকাল: গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে বাপেক্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে খনন কার্যক্রম শুরু হয়।
- 📏 গভীরতা ও প্রযুক্তি: এমডব্লিউডি প্রযুক্তিতে ১,৫৭৮ মিটার খনন করা হয়েছে; ১,৪২০-১,৪৬০ মিটার স্তরে মিলল গ্যাস।
- ⚡ জাতীয় গ্রিডে সংযোজন: দৈনিক ৫০-৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সফল খননকাজ
বাপেক্স সূত্র জানায়, সুন্দলপুর-৪ কূপে ডিরেকশনাল ওয়েল (Directional Well) পদ্ধতিতে মেজারিং হোয়াইল ড্রিলিং (MWD) প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ভূগর্ভের ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন চালানো হয়। পরীক্ষার পর ১ হাজার ৪২০ মিটার থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের মূল অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। এর আগে একই ভূগর্ভস্থ কাঠামোর অধীনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দলপুর-১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হলেও নতুন কূপটি সেনবাগে হলেও এটি একই ক্ষেত্রের অংশ হিসেবে সুন্দলপুর-৪ নামকরণ করা হয়েছে।
ডিএসটি পরীক্ষা ও চূড়ান্ত মজুত নির্ধারণের প্রক্রিয়া
সুন্দলপুর-৪ কূপ খনন প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কূপে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাসের প্রাথমিক সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট (DST) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এই পরীক্ষা শেষ হলে কূপটিতে মজুতকৃত গ্যাসের মোট পরিমাণ, চাপের তীব্রতা ও দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে।
সুন্দলপুর-৪ গ্যাস কূপ প্রকল্প একনজরে
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| কূপের নাম ও ধরন | সুন্দলপুর-৪ (মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ) |
| অবস্থান ও স্থানসমূহ | বড় চারিগাঁও, নবীপুর ইউনিয়ন, সেনবাগ, নোয়াখালী |
| খনন গভীরতা ও গ্যাস স্তর | মোট গভীরতা ১,৫৭৮ মিটার (গ্যাস স্তরের পরিধি: ১,৪২০ – ১,৪৬০ মিটার) |
| সম্ভাব্য দৈনিক উৎপাদন | ৫০ থেকে ৭০ লাখ ঘনফুট (জাতীয় গ্রিডে সংযোজনযোগ্য) |
| প্রকল্প প্রধান | মো. মোজাম্মেল হক (প্রকল্প পরিচালক, বাপেক্স) |
