![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
তারিখ: ২২ জুন, ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে চলা অসহ্য তীব্র তাপদাহ আর ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে রাজধানী ঢাকায় নেমেছে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টি। মেঘের গর্জনে আকাশ ভেঙে নামা এই বৃষ্টি নগরজীবনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীতলতা বয়ে আনলেও, বরাবরের মতোই ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য তা নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বর্ষণেই রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা।
স্বস্তির বৃষ্টির পর চিরচেনা জলজট
আজ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা থাকার পর দুপুরের দিকে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। ধুলোবালি আর তপ্ত পিচঢালা পথ ঠান্ডা হলেও নিমিষেই চিরচেনা জলজটের রূপ নেয় ঢাকার রাস্তাগুলো। বিশেষ করে মিরপুর, শ্যাওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, খিলগাঁও, পুরান ঢাকা, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর এবং বাড্ডা এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ভেতরের অলিগলি এখন প্রায় হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে।
কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া নগরবাসীকে এই জলজটের কারণে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। নোংরা ও পয়ঃনিষ্কাশনের মিশ্রিত পানি মাড়িয়েই অনেককে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
স্থবির গণপরিবহন ও তীব্র যানজট
সড়কে পানি জমে যাওয়ার কারণে দুপুরের পর থেকেই যানচলাচলের গতি মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় রিকশা এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা বিকল হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গণপরিবহনের তীব্র সংকটের কারণে অফিস ফেরত যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার সূত্র ধরে রাজধানীর প্রগতি সরণি, রোকেয়া সরণি ও কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউসহ বেশ কিছু প্রধান রুটে মাইলের পর মাইল তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
নগরবাসীর ক্ষোভ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রশ্ন
ভোগান্তিতে পড়া সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই যদি ঢাকার এই দশা হয়, তবে বর্ষার পুরো মৌসুমে কী অবস্থা হবে? প্রতিবছর ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের কথা বলা হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই কেন রাস্তাঘাট নদী হয়ে যায়, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনগুলোতে ঢাকার ট্রাফিক ও জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
