Touch Bangladesh
ঢাকাশনিবার , ১ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

যুক্তরাজ্যের মার্ল বেডে নতুন প্রজাতির গোলাপি ডোরা শৈবালের সন্ধান

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
আগস্ট ১, ২০২৬ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

নিউজ প্রোভাইডার 

অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম বলা হলেও, যুক্তরাজ্যের গভীর সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে রয়েছে প্রাচীন এক অসাধারণ জলজ বিশ্ব। সামুদ্রিক বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘মার্ল বেড’ (Maerl Beds)। দেখতে প্রবাল প্রাচীরের মতো হলেও এগুলো মূলত শক্ত ক্যালসিয়ামযুক্ত শৈবালের স্তর, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের অন্যতম ধনী আবাসস্থল।

আর এই মার্ল বেড নিয়ে পিএইচডি গবেষণার সময়ই চার দশক আগে এক রহস্যময় ‘গোলাপী-ডোরাকাটা’ সামুদ্রিক শৈবালের সন্ধান পেয়েছিলেন বিজ্ঞানী অধ্যাপক ক্রিস্টিন ম্যাগস। এটি বিজ্ঞানের কাছে ছিল সম্পূর্ণ অজানা। ছোট একটি শৈবালের টুকরো থেকে শুরু হওয়া এই আবিষ্কার শেষ পর্যন্ত তাঁর চার দশকের এক দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক গবেষণার গল্পে রূপ নেয়।

চার দশকের অধ্যাবসায় ও অনুসন্ধানের গল্প

৪০ বছর আগে গবেষণার সময় মার্ল শৈবালের গায়ে আটকে থাকা এই অদ্ভুত গোলাপি ডোরাকাটা শৈবালটি দেখে অধ্যাপক ম্যাগসের সন্দেহ হয় এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রজাতি হতে পারে। তবে বৈজ্ঞানিক নিয়মে নতুন প্রজাতির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে প্রয়োজন ছিল পূর্ণাঙ্গ এবং বড় কোনো নমুনার।

পিএইচডি শেষ করার পরও ক্রিস্টিন ম্যাগস শৈবালটির খোঁজ থামাননি। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কেবল দু-একবার এটি প্রত্যক্ষ করেন (যেমন একবার একটি সি-স্কোয়ার্ট বা সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে), কিন্তু সনাক্তকরণের জন্য পর্যাপ্ত নমুনা কখনোই পাননি।

অবশেষে দুই বছর আগে যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের (Cornwall) সমুদ্র তলদেশের মার্ল বেড ম্যাপিং ও পর্যবেক্ষণের সময় ‘ন্যাচারাল ইংল্যান্ড’-এর একদল গবেষক ও ডুবুরি একটি বিশেষ শৈবালের নমুনা উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে অধ্যাপক ক্রিস্টিন একটি বিশেষ ওয়াইন ফ্রিজ কিনে ফেলেন—যাতে নমুনাটি পরীক্ষা করার সময় অন্ধকার ও শীতল পরিবেশে নিরাপদে রাখা যায়।

ডিএনএ ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি সত্যিই বিজ্ঞানের ইতিহাসে একদম নতুন এক প্রজাতির শৈবাল। দীর্ঘ চার দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশ করা হয়েছে এবং শৈবালটির নমুনা লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ‘ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম’-এর অফিশিয়াল সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মার্ল বেড ও সমুদ্রের তলদেশের এক অন্য জগৎ

ন্যাচারাল ইংল্যান্ড-এর অধীনে এই ধরনের বিশেষায়িত ও ব্যয়বহুল ডুবুরি অভিযানের মাধ্যমে কর্নওয়ালের সুপ্রাচীন মার্ল বেডের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সামুদ্রিক তলদেশের এই স্তরগুলোতে স্পাইডার ক্র্যাব, স্টারফিশ, কিং স্ক্যালপ ও গোবি মাছসহ হরেক রকমের সামুদ্রিক প্রাণীর বসবাস।

পরিশেষে লাল-গোলাপী ডোরাকাটা ও চিমটার মতো অগ্রভাগ বিশিষ্ট এই বিশেষ লাল শৈবালটির (Red Algae) প্রজাতি উন্মোচন সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

তথ্যসূত্র : বিবিসি নিউজ

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।