Touch Bangladesh
ঢাকাসোমবার , ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

সাজেকে অবরোধে স্থবির পর্যটন, ২৫ কোটি টাকা ক্ষতির দাবি

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ২:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে টানা সড়ক অবরোধ ও সংঘাতের কারণে পর্যটন, পরিবহণ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সংকট নিরসনে প্রশাসনের উদ্যোগ শুরু হলেও আলোচনায় আন্দোলনকারীদের অনুপস্থিতি এবং আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের অভিযোগে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে টানা অবরোধের কারণে জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় দফার অনির্দিষ্টকালের অবরোধের পঞ্চম দিনের মতো সোমবারও সাজেক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় হোটেল-রিসোর্ট, পরিবহণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংকট নিরসনে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নিলেও আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কার্যকর আলোচনা এখনো সম্ভব হয়নি।

আলোচনায় আসেননি আন্দোলনকারীরা

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করা হয়। তবে সভায় আন্দোলনকারী সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মধ্যস্থতাকারী কমিটির সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং কয়েকজন হেডম্যান ও কারবারি অংশ নেন।

এর আগে রোববার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হেডম্যান-কারবারিদের সঙ্গে বৈঠকে তিন সদস্যের একটি মধ্যস্থতাকারী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে রয়েছেন অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, শান্তি বিজয় চাকমা ও কল্যাণমিত্র চাকমা।

মধ্যস্থতাকারী দলের সদস্য শান্তি বিজয় চাকমা জানান, আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সাজেকের উজোবাজার এলাকায় গিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, আন্দোলনকারী দুই সংগঠনের প্রতিনিধিদের সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে কী কারণে তাঁরা উপস্থিত হননি, তা জানা যায়নি। সাজেকের উজোবাজার এলাকায় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের মতামত নিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ না থাকায় স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অবরোধকারীদের প্রধান দাবি কী?

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি বন্ধ করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তাঁদের অভিযোগ, সশস্ত্র সদস্যদের কারণে স্থানীয়রা হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধ এবং বাজার এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবিও রয়েছে।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা জানিয়েছেন, তাঁদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তবে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। ফলে মামলা প্রত্যাহারের দাবি ভিত্তিহীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।

সংঘাতের নেপথ্যে আধিপত্যের বিরোধ?

সাজেকের চলমান অবরোধ ও সংঘাতের পেছনে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের অভিযোগও সামনে এসেছে।

খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া রোববার সাংবাদিকদের বলেন, সাজেক আগে একটি আঞ্চলিক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেখানে অন্য একটি সংগঠনের প্রবেশের পর বিরোধ বেড়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি পক্ষ অন্য সংগঠনকে এলাকা থেকে সরানোর দাবি জানাচ্ছে। ফলে চলমান সংকট কেবল সড়ক অবরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অবস্থানসংক্রান্ত বিরোধও জড়িত থাকতে পারে।

অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান অভিযোগ করেছেন, একটি সশস্ত্র সংগঠন নিজেদের অবস্থান ও সক্ষমতা বাড়াতে সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা বলেন, শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়কে কেন্দ্র করে সাজেকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এসব বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

পাঁচ দিনে পর্যটন খাতে কোটি টাকার ক্ষতির দাবি

সড়ক অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। এতে রিসোর্ট-কটেজের মালিক, পরিবহণ শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্য পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসভাপতি রিন্টু চাকমার দাবি, টানা পাঁচ দিন পর্যটক না আসায় রিসোর্ট-কটেজসহ সংশ্লিষ্ট খাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, অবরোধের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমজীবী মানুষ আয় করতে পারছেন না। তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে।

রিন্টু চাকমা আরও জানান, খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে মালবাহী ট্রাকে করে সাজেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেওয়া হয়। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর।

সংকট সমাধানে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন

সোমবার দুপুরে সাজেকের গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় সংঘর্ষের স্থান পরিদর্শন করেন উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে ওই এলাকায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, দুই জেলার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপাররা।

পরিদর্শনকালে তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংকট নিরসনে তাঁদের মতামত নেন।

প্রশাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় হেডম্যান-কারবারি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় সাজেকের সাম্প্রতিক সংঘাত, আন্দোলনকারীদের দাবি এবং পর্যটন খাত সচল রাখার বিষয়গুলো উঠে আসে।

তবে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ না নেওয়ায় উদ্যোগটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

স্থায়ী সমাধানে কী প্রয়োজন?

সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুধু অবরোধ প্রত্যাহার যথেষ্ট হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংঘর্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং অভিযোগের আইনসম্মত নিষ্পত্তি জরুরি।

একই সঙ্গে সব পক্ষের অংশগ্রহণে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা প্রয়োজন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ ও জরুরি যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় সচল করার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।

সাজেকের সংকট দীর্ঘায়িত হলে পর্যটননির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায়ও এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই রাজনৈতিক অভিযোগের বাইরে গিয়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।