![]()
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও, অনেকেই তা সময়মতো পাচ্ছেন না। নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে না পারা এবং গ্রেডক্রম, বাড়িভাড়া ও আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমের জটিলতার কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যারা নির্দিষ্ট সময়ে বেতন নির্ধারণ করতে পারেননি, তারা পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন এবং বকেয়ার টাকা পরবর্তীতে পাবেন।
- ⏳ বকেয়া ও বেতন প্রাপ্তি: যারা ১ নভেম্বরের মধ্যে বেতন নির্ধারণ করতে পারবেন না, তারা পুরোনো মতেই বেতন পাবেন তবে বকেয়া পরে পরিশোধ করা হবে।
- 📉 গ্রেড অসংগতি: নতুন নিয়মে বেতন নির্ধারণে ১১তম গ্রেডের তুলনায় ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি হওয়ার অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
- 🏠 বাড়িভাড়া ও পদোন্নতি জটিলতা: পদোন্নতি পেয়ে উচ্চ গ্রেডে গেলে বাড়িভাড়ার হার কমে যাওয়ায় উল্টো মোট আয় কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- 💻 আইবাস++ জটিলতা: সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (আইবাস++) ও অনভিজ্ঞ জনবলের কারণে বেতন নির্ধারণের কাজ ঝুলে আছে।
বেতন নির্ধারণে গ্রেডের স্বাভাবিক ক্রম উল্টে যাওয়ার শঙ্কা
জাতীয় বেতনকাঠামো ২০২৬ অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হিসাব করতে গিয়ে উল্টো চিত্র দেখা দিচ্ছে। কর্মচারীদের হিসাব অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর নতুন মূল বেতন ৩৭ হাজার টাকা নির্ধারিত হলেও ১২তম গ্রেডের একজনের ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারিত হচ্ছে। ফলে প্রারম্ভিক বেতনে এগিয়ে থাকা ১১তম গ্রেডের কর্মচারী নতুন কাঠামোয় ৭০০ টাকা কম পাচ্ছেন। এছাড়া জ্যেষ্ঠতার ব্যত্যয় ঘটে অনেক ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মকর্তা সিনিয়রদের চেয়ে বেশি বেতন পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পদোন্নতির পরও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা
নতুন কাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতা নিয়ে গুরুতর অসংগতি দেখা দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা নবম গ্রেডে পদোন্নতি পেলে মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও গ্রেড পরিবর্তনের কারণে বাড়িভাড়ার হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ৪৫ শতাংশ হয়ে যায়। এতে বাড়িভাড়া ১ হাজার ৯০০ টাকা কমে যায়, যার ফলে মূল বেতন বাড়লেও সব মিলিয়ে মাসিক মোট আয় ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইবাস++ জটিলতা ও সুরাহার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা
অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আবেদন করা হলেও অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের দপ্তর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত এসব সমস্যার সুরাহা হয়নি। আইবাস++ (iBAS++) ব্যবস্থার জটিলতা এবং প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের জানাশোনার ঘাটতির কারণে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী ও ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক এই জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। কর্মচারীরা দ্রুত এই অসংগতি দূর করে নির্দিষ্ট সময়ে বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পরিশোধের জোর দাবি জানিয়েছেন।
নতুন বেতনকাঠামো জটিলতা ও প্রভাব সংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| প্রভাবিত জনবল | ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী ও ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক |
| ১ নভেম্বরের বেতন পরিস্থিতি | যারা নির্ধারণ করতে পারেননি, তারা পুরোনো মতেই বেতন পাবেন (বকেয়া পরে আসবে) |
| প্রধান অসঙ্গতিসমূহ | গ্রেডক্রম উল্টে যাওয়া, বাড়িভাড়া কমে যাওয়া ও জুনিয়র-সিনিয়র বেতন বৈষম্য |
| প্রযুক্তিগত বাধা | আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমের জটিলতা ও অনভিজ্ঞ জনবল |
