![]()
নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ ও ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। তার পদত্যাগের ঘোষণার ফলে গত সাত বছরে এই নিয়ে ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান পেতে চলেছে ব্রিটেন।
সোমবার (২২ জুন) ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে এক বিবৃতিতে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা দেন তিনি।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্টারমার বলেন, ‘আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি কি না, এখন সেই প্রশ্নই তুলছে আমার দল।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংসদীয় দলের সেই প্রশ্নের জবাব আমি পেয়েছি এবং সসম্মানে তা মেনেও নিচ্ছি। ক্ষমতায় থাকাকালীন আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্যই ছিল নিজের ভালোবাসার দেশকে সবার আগে রাখা। সেই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। আজ সকালেই মহামান্য রাজাকে আমার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি।’
বক্তব্যের শেষের দিকে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী। সব পরিস্থিতিতে ঢাল হয়ে পাশে থাকার জন্য স্ত্রী লেডি ভিক্টোরিয়া স্টারমারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
ধরা গলায় স্টারমার বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পর এবার আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি সময় দেব। আমার অসাধারণ স্ত্রী ভিকের জন্য সেরা স্বামী হয়ে ওঠার চেষ্টা করব। সেইসঙ্গে আমার গর্ব ও আনন্দের উৎস—সন্তানদের জন্য আরও ভালো বাবা হয়ে উঠতে চাই।’
স্টারমারের এই ঘোষণার পর সবার মনোযোগ এখন লেবার পার্টির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দলের পরবর্তী উত্তরসূরি বেছে নিতে অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হবে নাকি কোনো পছন্দের নেতাকে সরাসরি দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিদায়ী ভাষণে কিয়ার স্টারমার বলেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য তিনি দলকে অনুরোধ করবেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে এই পদের জন্য মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হতে পারে। তার কয়েক সপ্তাহ পরেই গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত হয়ে যাবে।
স্টারমার বলেন, ‘ভোটপ্রক্রিয়া শুরু হলে আগামী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টের অধিবেশন পুনরায় চালু হওয়ার আগেই নতুন নেতা নির্বাচন পর্ব সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।’ পাশাপাশি পরবর্তী নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান দেন স্টারমার।
