![]()
সার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কৃষক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন রবি মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের সব জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকেরা অনলাইনে যুক্ত হন।
মন্ত্রী বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কৃষক হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের ডিলারশিপ বাতিল করা হবে। সার ব্যবস্থাপনায় কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নতুন ডিলারদের লাইসেন্স দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বিক্রয় এলাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষিজমির পরিমাণ, কৃষকের সংখ্যা ও ফসলের নিবিড়তা বিবেচনায় নিতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ডিলারের দোকানে সারের মূল্যতালিকা ও মজুতের তথ্য দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। কৃত্রিম সংকট তৈরি, অতিরিক্ত দাম আদায়, অবৈধ মজুত এবং সীমান্ত দিয়ে সার পাচার বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।
প্রকৃত কৃষকের কাছে ন্যায্যভাবে সার পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড ও কৃষকের তালিকা ব্যবহারের নির্দেশনাও দেন তিনি।
আসন্ন রবি মৌসুমে সারের বরাদ্দ ও সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চাহিদা বাড়লে তা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সার পাচার ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু এলাকায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় বাংলাদেশ থেকে এসব সার পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই দেশের সার দেশের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকদের জন্য সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে সার সরবরাহ করছে। এই ভর্তুকির সুফল যেন প্রকৃত কৃষকেরা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো জেলায় সার বিতরণে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের জবাবদিহি করতে হবে।
এ ছাড়া ইউরিয়া সার শিল্পকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন কৃষিমন্ত্রী। বিশেষ করে বস্ত্র ও ডাইং কারখানায় ইউরিয়া সার ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এ জন্য জেলা পর্যায়ের সার মনিটরিং কমিটিগুলোকে নিয়মিত সভা করে সার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
