![]()
তীব্র গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে রান্না করা মাংস, বার্গার, আলুর সালাদসহ বিভিন্ন পচনশীল খাবার দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিলে তা থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। তাই পিকনিক, বারবিকিউ কিংবা বাইরে ঘুরতে যাওয়ার সময় খাবার সংরক্ষণ ও খাওয়ার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও জরুরি চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লিয়ানা ওয়েন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ খাদ্যবাহিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি। এসব ব্যক্তির অসুস্থতা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।
মাংস রান্নায় যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে
বারবিকিউ কিংবা বাইরে মাংস রান্নার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ, মাংস ঠিকভাবে সিদ্ধ না হলে এর মধ্যে ক্ষতিকর জীবাণু থেকে যেতে পারে।
চিকিৎসক লিয়ানা ওয়েনের পরামর্শ, মাংসের ভেতরের তাপমাত্রা পরিমাপ করতে ফুড থার্মোমিটার ব্যবহার করা উচিত। তার মতে, মুরগির মাংসের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অন্তত ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং গরুর মাংসের কিমার তাপমাত্রা অন্তত ১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট হওয়া প্রয়োজন।
রান্না শেষ হওয়ার পর পরিবেশনের আগপর্যন্ত মাংসের তাপমাত্রা ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি রাখতে হবে। এতে ক্ষতিকর জীবাণুর বংশবিস্তার কমানো সম্ভব।
এ ছাড়া রান্নার আগে কাঁচা মাংস দীর্ঘ সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফেলে রাখা উচিত নয়। রান্নার আগপর্যন্ত মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে।
গরমে কতক্ষণ খাবার বাইরে রাখা নিরাপদ?
গরম আবহাওয়ায় রান্না করা খাবার কিংবা পচনশীল খাদ্যদ্রব্য বাইরে ফেলে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণ তাপমাত্রায় এসব খাবার সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা ফ্রিজের বাইরে রাখা যায়।
তবে বাইরের তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে সময়সীমা কমিয়ে এক ঘণ্টা করতে হবে। অর্থাৎ প্রচণ্ড গরমে রান্না করা বার্গার, আলুর সালাদ ও বাঁধাকপির সালাদের মতো খাবার দ্রুত খেয়ে ফেলতে হবে। অন্যথায় এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখতে হবে।
পার্ক কিংবা বাইরে বারবিকিউ আয়োজনের সময় ফ্রিজের ব্যবস্থা না থাকলে বরফসহ ভালো মানের তাপ নিরোধক কুলার ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্নার আগে কাঁচা মাংস ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার নিচের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা উচিত।
পাশাপাশি কাঁচা মাংস ভালোভাবে বন্ধ করা ব্যাগে রাখতে হবে, যাতে তা ফলমূল, শাকসবজি কিংবা সরাসরি খাওয়ার উপযোগী খাবারের সংস্পর্শে না আসে।
কাঁচা মাংসের জন্য আলাদা বাসন ব্যবহার করুন
খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো কাঁচা ও রান্না করা খাবারের জন্য একই বাসন ব্যবহার করা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কাঁচা মাংস কাটার জন্য ব্যবহৃত ছুরি, প্লেট ও অন্যান্য বাসন রান্না করা খাবারের বাসন থেকে আলাদা রাখতে হবে।
বিশেষ করে সালাদ, ফলমূল, পাউরুটি ও অন্যান্য প্রস্তুত খাবারের সঙ্গে কাঁচা মাংসের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।
কাঁচা মাংস ধরার পর প্রতিবার সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। কারণ, কাঁচা মাংসের জীবাণু হাতের মাধ্যমে অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
দুধ ও ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি উল্লেখ করে চিকিৎসক লিয়ানা ওয়েন বলেন, যথাযথ তাপমাত্রায় রান্না করা হলে মাংস ও ডিম খাওয়া নিরাপদ। তবে দুধ পান করার ক্ষেত্রে সেটি পাস্তুরিত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
কাঁচা দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এমনকি কাঁচা দুধের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ছড়ানোর আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তাই কাঁচা দুধ পান করা কিংবা কাঁচা দুধ দিয়ে তৈরি খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুস্থ থাকতে যা মনে রাখবেন
খাদ্যে বিষক্রিয়া এড়াতে রান্না করা খাবার যথাযথ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা এবং হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
বিশেষ করে গরমের সময় খাবার দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে না রেখে দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
