![]()
নিউজ প্রোভাইডার
প্রতিবছর এই সময়ে সাধারণ মানুষের মনে ফিরে আসা এক চেনা আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ কেবল নির্দিষ্ট বর্ষা মৌসুমেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এখন কম-বেশি সারা বছরই দেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মিলছে। তবে বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে এসে সংক্রমণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমাদের দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির পাশাপাশি এই ভাইরাসের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও উপসর্গে এসেছে এক বড় ধরনের রূপান্তর। ডেঙ্গু ভাইরাসের এই আকস্মিক চারিত্রিক পরিবর্তনের কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে এর অভ্যন্তরীণ ভয়াবহতা বা তীব্রতা আগে থেকে আঁচ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। এই বদলে যাওয়া বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের প্রচলিত সচেতনতা ও প্রতিরোধকৌশলেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা অনুযায়ী, ডেঙ্গুর সেই চেনা বা চিরাচরিত রূপটি (ক্ল্যাসিক্যাল ডেঙ্গু) এখন আর আগের মতো রোগীর শরীরে তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। অতীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে রোগীর শরীরে তীব্র জ্বর, চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা, পিঠ ও শরীরের প্রতিটি অস্থিসন্ধিতে প্রচণ্ড ব্যথার মতো স্পষ্ট উপসর্গ প্রকাশ পেত—যে কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এই রোগটি ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এর পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীর শরীরে লালচে র্যাশ বা চামড়ায় গুটি ওঠার মতো অত্যন্ত স্পষ্ট লক্ষণগুলো দেখা যেত, যা দেখে খুব সহজেই ডেঙ্গু শনাক্ত করা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে ভাইরাসের নতুন রূপ পরিবর্তনের ফলে এই সমস্ত চেনা লক্ষণগুলোর প্রকাশ ছাড়াই রোগী হুট করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন চরিত্রের ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে যেকোনো ধরনের সাধারণ জ্বর, সর্দি বা শারীরিক দুর্বলতাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে শরীরকে সম্পূর্ণ করোনামুক্ত ও সুস্থ রাখতে অন্তত দুই সপ্তাহ পূর্ণ বিশ্রামে থাকা বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ঘরের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করার বিষয়ে আরও বেশি কঠোর হতে হবে।
