![]()
হালাণ্ড-ঝড়ে স্তব্ধ ব্রাজিল, মেটলাইফে নেইমার যুগের করুণ ও অশ্রুসিক্ত অবসান!
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে গেল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে নরওয়ে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিল সেলেসাওরা। তবে এই হারের চেয়েও বড় ক্ষত হয়ে থাকল এক কিংবদন্তির বিদায়— ম্যাচ শেষেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়র। সমাপ্তি ঘটল ‘নেইমার লেজেন্ড’ যুগের।
প্রথমার্ধের নাটকীয়তা ও ব্রুনোর পেনাল্টি মিসের মাশুল
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধে নরওয়ের প্যাট্রিকবার্গের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে রক্ষা পায় ব্রাজিল। এর কিছুক্ষণ পরেই পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। কিন্তু কোটি ভক্তকে হতাশ করে ব্রুনো গিমারেসের নেওয়া দুর্বল পেনাল্টি শটটি রুখে দেন নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক ওরিয়াননিল্যান্ড। এই একটি মিসই যেন পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
১১ মিনিটে হালাণ্ডের জোড়া ছোবল, ছিটকে গেল ব্রাজিল
দ্বিতীয়ার্ধের শেষভাগে শুরু হয় আসল ‘হালাণ্ড শো’। ৭৯তম মিনিটে অ্যান্ড্রিয়াসের ক্রস থেকে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসকে পরাস্ত করে এক বুলেট গতির হেডারে ডেডলক ভাঙেন আর্লিং হালাণ্ড (১-০)। এরপর ঠিক ৯০তম মিনিটে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত ও ক্লিনিক্যাল শটে নিজের ব্রেস পূরণ করেন এই রিয়াল-বার্সা ত্রাস। নরওয়ে এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে। এই গোলের মাধ্যমে চলমান বিশ্বকাপে ৭ গোল করে মেসি ও এমবাপ্পের পাশে বসলেন হালাণ্ড।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ১০০তম মিনিটে (৯০+১০’) পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ কমান নেইমার। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রেফারি খেলা শেষের বাঁশি বাজাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ পরবর্তী বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রের খবর— এটিই ছিল সেলেসাও জার্সিতে নাম্বার টেনের শেষ ম্যাচ। বিদায়টা ট্রফি দিয়ে হলো না, কিন্তু ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে তার অবদান চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ব্রাজিল-বধের সেই অবিশ্বাস্য রেকর্ড অক্ষুণ্নই রাখল নরওয়ে!
এই জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের ‘অপরাজেয়’ থাকার রূপকথা ধরে রাখল নরওয়ে। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র দল হিসেবে ব্রাজিলের সাথে একাধিকবার মুখোমুখি হয়েও কখনো হারেনি তারা (৫ ম্যাচে ৩ জয়, ২ ড্র)। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের।
