![]()
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এবার কি খুলবে জট? সংসদে অতীত সফলতার কথা মনে করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!
রাখাইনের সংঘাত আর আন্তর্জাতিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে বছরের পর বছর ধরে আটকে আছে লাখো রোহিঙ্গার ভাগ্য। তবে কি এবার সত্যিই কোনো স্থায়ী সমাধান হতে যাচ্ছে? বুধবার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক—সব ফ্রন্টেই এখন জোরদার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তার সরকার। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
- 🔹 অতীতের দৃষ্টান্ত: ১৯৭৮ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সফলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
- 🔹 আরাকান আর্মি ফ্যাক্টর: রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কেবল মিয়ানমার জান্তা নয়, আরাকান আর্মির সাথেও সংলাপের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
- 🔹 আন্তর্জাতিক চাপ ও বিচার: গাম্বিয়ার করা আইসিজে (ICJ) মামলায় নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে কাজ করছে বাংলাদেশ।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ও আন্তর্জাতিক মহলের নজর
রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বৈশ্বিক মানবিক এজেন্ডার কেন্দ্রে রাখতে সরকার জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সাথে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইউএনএইচসিআর (UNHCR), ইউএন উইমেন এবং ডব্লিউএফপি’র (WFP) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি, সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর ও ক্যাম্প পরিদর্শন এই সংকট মোকাবেলায় তুরস্কের মানবিক সহায়তা আরও বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স
আন্তর্জাতিক এই সংকটটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। তবে দেশের অভ্যন্তরে ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি ক্যাম্পগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলস কাজ করছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে গঠিত একটি ন্যাশনাল টাস্কফোর্স মানবিক সহায়তা ও প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। বাস্তুচ্যুত এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সম্মানজনক বিদায় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার পিছু হটবে না বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
