![]()
‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’: ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফকল্যান্ডস ব্যানার হাতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদযাপন, ফিফার তদন্ত দাবি যুক্তরাজ্যের
আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল জয়ের পর “Las Malvinas son Argentinas” (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার হাতে উদযাপন করেছেন, যা মূলত ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালটিতে ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে পরপর দুটি গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। আগামী
সোমবার নিউ জার্সিতে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
ফকল্যান্ডস বিতর্ক ও ব্যানারের পেছনের ইতিহাস
এই ব্যানারটি মূলত একটি ভূখণ্ড নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যাকে ব্রিটেনে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ এবং আর্জেন্টিনায় ‘ইসলাস মালভিনাস’ বলা হয়। ৪৪ বছর আগে এই বিরোধের জেরে ৭৪ দিন ব্যাপী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ নাগরিকসহ ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। সেমিফাইনাল শেষে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং জিওভানি লো চেলসো হাসিমুখে এই ব্যানারটি উঁচিয়ে ধরেন এবং গ্যালারির ভক্তদের উদ্দেশ্যে নাড়তে থাকেন। তবে এই ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছিল, তা এখনও অস্পষ্ট।
- 🎙️ খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া: বিগত চার বছর ধরে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা আর্জেন্টাইন তারকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বলেন, “মালভিনাসের একজন প্রবীণ যোদ্ধা এটি দেখলে আবেগে কেঁদে ফেলবেন। আমি জানি না কোনো নিষেধাজ্ঞা আসবে কি না, তবে এই দ্বীপপুঞ্জ যে আমাদের, তারা সেটাই প্রমাণ করেছে।”
- 📜 ফিফার কোড অব কন্ডাক্ট: ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে “রাজনৈতিক, আপত্তিকর এবং/অথবা বৈষম্যমূলক” কোনো ব্যানার, পতাকা বা লিফলেট প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- 🎵 পূর্ববর্তী ঘটনা: কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পরও আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের গাইতে শোনা যায়: “মালভিনাসের জন্য, ডিয়েগো [ম্যারাডোনা] এবং লিও [মেসি]-র শেষটার জন্য।”
যুক্তরাজ্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের দাবি
এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল ব্যানার প্রদর্শনের এই ঘটনাকে “সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “রাজনীতিকে ফুটবল থেকে আলাদা রাখা দরকার। প্রকৃতপক্ষে, বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান নীতিই হলো ফুটবলে রাজনীতি না জড়ানো। বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ ফিফার হাতে। আমি আশা করি ফিফা এটি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে।” এদিকে আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেজান্দ্রা মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বা জাতিগত উসকানিমূলক যেকোনো বার্তা বহনকারী বস্তুর প্রবেশ স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ এবং উদযাপনে শান্তি বজায় রাখতে ১,৬০০ পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন থাকবে।
ফকল্যান্ডস যুদ্ধ ও ফিফার নিয়মনীতির একনজর
| বিবরণ | তথ্য | প্রভাব / বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড | ব্রিটেনে ‘ফকল্যান্ডস’, আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ | দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব |
| ১৯৮২ সালের যুদ্ধ | ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত | ৯০০+ মানুষের প্রাণহানি |
| ফিফার নিয়ম | রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ | সম্ভাব্য শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা |
| যুক্তরাজ্যের অবস্থান 🇬🇧 | বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইলের তীব্র নিন্দা | ফিফার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি |
