![]()
ফ্যাশন ট্রেন্ড বনাম নিজস্ব স্টাইল: আমরা অন্ধ অনুকরণ করব নাকি ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলব?
ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়ে আপনার ভাবনা কী? আপনি কি ফ্যাশন দুনিয়ার নতুন চমক দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন, নাকি এসব ‘ফ্যাশনের বাড়াবাড়ি’ আপনার কাছে অর্থহীন মনে হয়? সর্বোপরি, রানওয়েতে মডেলদের আমরা যেসব পোশাক পরতে দেখি, তার অনেকটাই এত মাত্রাতিরিক্ত যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পোশাকের সাথে তার খুব একটা মিল পাওয়া যায় না। আপনি যদি ট্রেন্ড অনুসরণও করেন, তবে কি সেগুলো নিজের পোশাক নির্বাচনের সময় কাজে লাগান, নাকি বাস্তব জীবনের সাথে কোনো মিল না থাকলেও শুধুই মজা দেখার জন্য ফ্যাশন দুনিয়ার খোঁজখবর রাখেন?
স্থানভেদে পোশাকের স্বকীয়তা ও ‘কোর ওয়ারড্রোব’
আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে প্রতিটি শহর বা ভৌগোলিক অবস্থানের পোশাকের নিজস্ব একটি পরিচয় (Sartorial identity) থাকে। আমি উইসকনসিনের ম্যাডিসনে বড় হয়েছি, যেখানে বছরের আট মাসই প্রচণ্ড ঠান্ডায় টিকে থাকার জন্য আমাদের ফ্যাশন বলতে ছিল ডাউন পারকা জ্যাকেট আর বালাক্লাভা টুপি। গ্রীষ্মকাল কাটত টি-শার্ট আর জিন্স বা শর্টসে। এরপর কলেজে গিয়ে দেখলাম আমার সমবয়সীরা আমার চেয়ে অনেক বেশি ‘প্রেপি’ স্টাইলে পোশাক পরছে—সেখানে নিজেকে কিছুটা বেমানান লাগতে শুরু করল। গ্র্যাজুয়েশনের পর যখন নতুন কর্পোরেট ক্যারিয়ারের জন্য নিউইয়র্কে পাড়ি জমালাম, তখন উপযুক্ত পোশাক কেনার সামর্থ্য না থাকায় আবারও নিজেকে বেমানান মনে হলো।
আসলে, ফ্যাশনের প্রতি আমার এত বছরের আগ্রহের মূল কারণ হলো—আমি আর কখনোই কোথাও নিজেকে ‘বেমানান’ হিসেবে দেখতে চাই না। আমি গাদা গাদা পোশাক চাই না, আমি শুধু এমন কিছু সঠিক পোশাক চাই যা আমার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলবে এবং আমাকে উপস্থাপনযোগ্য ও ফ্যাশনেবল দেখাবে। আমি প্রতি বছর আমার আলমারির সমস্ত পোশাক পাল্টাতে চাই না। আমি এমন পোশাকে অর্থ, সময় বা সম্পদ নষ্ট করতে রাজি নই যা এক বছর পরই ফেলে দিতে হবে। এ কারণেই ‘কোর ওয়ারড্রোব’ (Core Wardrobe) বা মৌলিক পোশাকের সংগ্রহ আমার জন্য সবচেয়ে কার্যকর।
নিউইয়র্ক বনাম মাদ্রিদ: স্টাইলিংয়ের ভিন্ন দর্শন
তিন বছর আগে নিউইয়র্ক থেকে মাদ্রিদে আসার পর সেখানকার নারীদের স্টাইল দেখে আমি কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। নিউইয়র্ক (এবং প্যারিসেও) স্টাইলিশ নারীরা জানেন কীভাবে নিজেদের স্টাইল খুঁজে বের করে তা ধরে রাখতে হয়। তারা তাদের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে ফ্যাশনকে ব্যবহার করেন। তারা অন্ধভাবে ট্রেন্ড বা ফ্যাশন ডিরেকশন অনুসরণ করেন না। অন্যদিকে, মাদ্রিদে স্টাইলিশ নারীদের আক্ষরিক অর্থেই ট্রেন্ড অনুসরণ করতে দেখে আমি কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। তারা নিজেদের প্রয়োজনে ফ্যাশনকে গ্রহণ করার পরিবর্তে, ফ্যাশনকে তাদের পোশাক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেন।
ট্রেন্ডগুলোর ক্ষেত্রে আমার মানসিকতা মূলত নিউইয়র্কারদের মতোই। আমি জানি আমাকে কিসে ভালো মানায় এবং আমার ব্যক্তিত্বের সাথে কোনটা মানানসই। কোনো ট্রেন্ড গ্রহণ করার আগে আমি দুটি প্রশ্ন করি:
- ✅ ১. এটি কি আমার স্টাইলের সাথে মানানসই?
যেমন, স্কিনি জিন্স বহু বছর ধরে ট্রেন্ডে থাকলেও আমি তা পরি না, কারণ এটা আমার স্টাইল নয়। কিন্তু স্ট্রেইট-লেগ জিন্স ট্রেন্ডিং হলে আমি তা নির্দ্বিধায় কিনি, কারণ আমি জানি এটা আমাকে মানাবে। - ⏳ ২. এটি কি দীর্ঘস্থায়ী নাকি ক্ষণস্থায়ী? (প্রথমটির উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলেই কেবল এই ধাপে আসি)
যেমন ভিনাইল (Vinyl) বা পশমী ফার-যুক্ত স্যান্ডেল। এগুলো ৬ মাসের মধ্যেই বাতিল হয়ে যায়। যা এত দ্রুত হারিয়ে যায়, তার পেছনে অর্থ নষ্ট করার কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখি না।
ট্রেন্ডকে নিজের মতো করে ব্যবহারের ব্যবহারিক গাইড
ডিজাইনাররা প্রায়ই ট্রেন্ডগুলোকে একটি চরম পর্যায়ে নিয়ে যান। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমাদের সেগুলো নিজের মতো করে মানিয়ে নিতে হয়। নিচে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:
| ফ্যাশন ট্রেন্ড | রানওয়ে বা ম্যাগাজিনে যা দেখায় | বাস্তব জীবনে আমার নিজস্ব স্টাইল |
|---|---|---|
| বেইজ (Beige) কালার | মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বেইজ আউটফিট | সফট প্যাস্টেল ও অন্যান্য নিউট্রাল কালারের সাথে মিক্স-ম্যাচ |
| টাই ডাই (Tie Dye) | কড়া রঙের ক্লাসিক টাই ডাই প্রিন্ট | সফট ওয়াটারকালার অ্যাবস্ট্রাক্ট বা ফ্লোরাল প্রিন্ট |
| ক্র্যাফট ওয়ার্ক | পুরো পোশাকে ম্যাক্রেম (Macrame) কাজ | পোশাকের সামান্য অংশে বা কিনারে হালকা ফ্রিঞ্জ ট্রিম |
| টুপি (Hats) | অতিরিক্ত র্যাফেল, লেইস বা ভেইল যুক্ত টুপি | ছিমছাম, ক্লাসিক ও টেইলরড ‘ফেডোরা’ (Fedora) টুপি |
