Touch Bangladesh
ঢাকাসোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

খুলনায় খাবার চুরির অপবাদে আজমুলকে পিটিয়ে হত্যা: নেপথ্যের ঘটনা

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের কাছে গল্লামারি হল রোডের এক মেসে খাবার ‘চুরি’র অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে। চুয়াডাঙ্গার দর্শনার সন্তান আজমুলকে বেদম মারধরের একপর্যায়ে তিনি চারতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। তবে তাকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে নাকি তিনি প্রাণ বাঁচাতে লাফ দিয়েছেন, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র রহস্য। এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

আজমুল হত্যাকাণ্ড ও মেসের সরজমিন অনুসন্ধানের মূল বিষয়াবলি

  • 🍲 ঘটনার সূত্রপাত: শুক্রবার রাতে ৩য় তলার মেসের রান্নাকৃত লাউ-মাছ কমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তল্লাশি শুরু করেন উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা।
  • 🚨 নিগ্রহ ও ছাদে নিয়ে যাওয়া: ৪র্থ তলার ‘ডি-৮’ কক্ষে খাটের নিচে অর্ধেক খাওয়া প্লেট পাওয়ার পর আজমুলকে বেদম চড়-থাপ্পড় মেরে ছাদে তোলা হয়।
  • 💸 বাবার কাছে টাকা দাবি: ছাদে মারধরের মাঝে আজমুলের বাবার ফোনে কল দিয়ে টাকাও দাবি করা হয়েছিল বলে মেসের শিক্ষার্থীদের দাবি।
  • ⚖️ মামলা ও বর্তমান পরিস্থিতি: নিহত আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিনের দায়ের করা হত্যা মামলায় ৪ চিহ্নিত ছাত্রসহ ২৫ জন আসামি; মেস ছেড়ে পালিয়েছে অন্য শিক্ষার্থীরা।

লাউ-মাছের ঝোল থেকে পিটুনি: প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ

মেসের রান্নার দায়িত্বে থাকা গৃহকর্মী ফাতেমা জানান, তিনি ৯ জনের জন্য লাউ দিয়ে মাছ রান্না করেছিলেন, তবে আজমুলের সেই ‘মিল’ ছিল না। খাবার কম পড়ার পর শিক্ষার্থীরা প্রতিটি কক্ষে খোঁজ শুরু করে এবং প্রতিবেশীদেরও ডেকে নেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে আজমুলের কক্ষের খাটের নিচে প্লেটে অর্ধেক খাওয়া খাবার পাওয়ার পর কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। উপস্থিত বয়স্ক ব্যক্তিরা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও চোর ধরা পড়ার খবরে বাইরে থেকে আরও লোক এসে যোগ দেয় এবং পরে আজমুলকে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়।

ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু নাকি হত্যা? জনমনে প্রশ্ন ও নীরবতা

রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রচণ্ড চিৎকারের পর ভবনের নিচে আজমুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন নিচতলার শিক্ষার্থীরা। রাত দেড়টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে আজমুল পিটুনির হাত থেকে বাঁচতে স্বেচ্ছায় ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিলেন নাকি তাকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পর রোববার সকালে মেসে গিয়ে দেখা যায় ৩য় ও ৪র্থ তলার সব কক্ষে তালা ঝুলছে এবং অভিযুক্ত ও ম্যানেজার মেহদীসহ জড়িত শিক্ষার্থীরা মেস ছেড়ে পালিয়েছে।

বাবার হত্যা মামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা

নিহত আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে খুলনার হরিণটানা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর নামসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ গ্রাম দর্শনার তিতুদহের বড়শলুয়ায় আজমুলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত সার্বিক সারসংক্ষেপ

বিষয় তথ্য ও বিবরণ বর্তমান অবস্থা / অগ্রগতি
নিহত শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন, ১ম বর্ষ (ইংরেজি বিভাগ), নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়। নিজ গ্রাম চুয়াডাঙ্গায় দাফন সম্পন্ন।
ঘটনার স্থান ও সময় মসজিদের গলি, গল্লামারি হল রোড, খুলনা; শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাত। মেসের ৩ ও ৪ তলার রুম তালাবদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা পলাতক।
ঘটনার মূল কারণ ৩য় তলার মেস মিলের খাবার কম পড়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে মব জাস্টিস/পিটুনি। ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুর রহস্য তদন্তাধীন।
আইনি পদক্ষেপ হরিণটানা থানায় ৪ শিক্ষার্থীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা। পুলিশের অভিযান চলমান, কোনো গ্রেপ্তার নেই।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।