![]()
সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারিকৃত আদেশ বহাল রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন দেশীয় টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতের সাধারণ শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলে দেশের স্পিনিং মিলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাবে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারাবেন এবং ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে।
বুধবার ঢাকায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন স্পিনিং মিলের শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের পক্ষে এই দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সালমা গ্রুপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ইঞ্জিনিয়ার আজহার আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করায় সংকটগ্রস্ত দেশীয় টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাত আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় বাজারের সুতার চাহিদা বাড়বে, বন্ধ এবং আংশিক চালু থাকা কারখানাগুলো আবারও পুরোদমে সক্রিয় হবে এবং বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
ব্যাংক গ্যারান্টি আমদানিতে বাধা নয়
বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কার বিষয়ে আজহার আলী বলেন, নন-বন্ডেড রপ্তানিকারকদের মতো বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে আমদানিতে বাধা আসার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এটি কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি নিয়ন্ত্রিত পদক্ষেপ।
সংবাদ সম্মেলনে টেক্সটাইল খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে অন্তত ১১৭টি স্পিনিং মিল বন্ধ বা আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে চালু থাকা ৪১৩টি মিলের কেবল ১০-৩০ কাউন্ট সুতা উৎপাদনের বার্ষিক ক্ষমতা প্রায় ১৩০ কোটি কেজি।
অন্যদিকে, বিগত দুই অর্থবছরে এই নির্দিষ্ট কাউন্টের সুতা আমদানি প্রায় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে। অতিরিক্ত আমদানির কারণে দেশীয় সুতার বাজার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল বলে দাবি করেন বক্তারা।
তারা মনে করেন, প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের এই খাতে সরাসরি ৩০ লাখ মানুষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। ফলে স্থানীয় শিল্প রক্ষা না হলে দেশের সমগ্র অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিল্প রক্ষায় ৪ দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলন থেকে টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতকে সচল রাখতে চার দফা দাবি পেশ করা হয়:
১. সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে এনবিআরের জারিকৃত আদেশ বহাল রাখা।
২. শিল্পকারখানায় বর্তমান গ্যাস সরবরাহ ও নিরবচ্ছিন্ন চাপ বজায় রাখা।
৩. তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সমন্বিত ‘টেক্সটাইল-আরএমজি নীতি’ গ্রহণ করা।
৪. পুনঃব্যবহারযোগ্য (রিসাইকেল) ও পরিবেশবান্ধব সুতা উৎপাদনে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া।
অনুষ্ঠানে মোশাররফ গ্রুপের পরিচালক (অপারেশন) শাহিনুল হক প্রশ্ন তুলে বলেন, চার দশক পার হলেও পোশাক খাতকে সুতা আমদানিতে কেন এখনও বন্ড সুবিধা দিতে হবে? এই সুবিধার কারণে বিদেশি সুতায় বাজার ছেয়ে গেছে, যার সাথে অসম প্রতিযোগিতায় পেরে না উঠে দেশীয় মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনটেক্স লিমিটেড, ইউটা স্পিনিং মিল এবং বেঙ্গল এফএনকে গ্রুপসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
