![]()
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.): মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ ও শান্তির বার্তা
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের পুণ্য স্মৃতিময় দিন আজ ১২ রবিউল আউয়াল। সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে বিনম্র শ্রদ্ধা ও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করছেন। তাওহিদের মহান বাণী ও শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রচারক মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাব পুরো বিশ্বে এক ঐতিহাসিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
- 🌙 ১২ রবিউল আউয়াল: ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম এবং ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে এই দিনেই মহানবীর (সা.) ওফাত।
- 📖 ধর্মীয় আমল: কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, নফল রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন।
- 🤝 নেতৃবৃন্দের বাণী: ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে মহানবীর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর।
- 🕌 বিশেষ কর্মসূচি: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা ও বইমেলা।
‘আল-আমিন’ থেকে বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত
আইয়ামে জাহেলিয়ার সেই অন্ধকার যুগে—যখন আরব সমাজ পৌত্তলিকতা, অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই বিশ্বজগতের রহমতস্বরূপ প্রেরিত হন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও তাঁর সততা, আমানতদারি ও সংযমের কারণে তিনি মক্কায় ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) উপাধি লাভ করেন। চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত প্রাপ্তির পর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বর্তমান সংঘাত ও বৈষম্যপূর্ণ বিশ্বে মহানবীর (সা.) শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিকতার আদর্শ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।” তিনি সাম্য ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে এতিম, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি মহানবীর (সা.) সহমর্মিতার শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, মহানবীর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ সুদৃঢ় করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি
পবিত্র দিনটি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাহফিল, সেমিনার, ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম চত্বরে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ইসলামি বইমেলারও আয়োজন করা হয়েছে।
