![]()
অপরাধ ও সমাজ
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মধুপুরে মায়ের সম্পত্তির ভাগ না পেয়ে বাড়ি পুড়িয়ে দিলেন গারো যুবক
১৬ বছর ধরে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ মামা ও মাসির বিরুদ্ধে, গারো সমাজে পুরুষদের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক, TouchBangladesh
ছবি: সংগৃহীত (প্রতীকী)
টাঙ্গাইলের মধুপুরে মায়ের সম্পত্তির ভাগ না পেয়ে ক্ষোভে নিজের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এক গারো যুবক। বাড়ি পোড়ানোর পর ওই যুবক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর গারো সমাজে পুরুষদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা থেকে জানা যায়, ওই যুবকের মা মারা যাওয়ার পর গত ১৬ বছর ধরে তাঁর মাসি (মায়ের বোন) ও মামা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছিলেন। মাতৃপ্রধান গারো সমাজের প্রচলিত নিয়মের দোহাই দিয়ে ওই যুবককে তাঁর মায়ের সম্পত্তির অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির ন্যায্য ভাগ চেয়ে না পেয়ে এবং মামা-মাসির টালবাহানায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবক রাগের মাথায় নিজের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।
পরিবারের দ্বন্দ্বে গণমাধ্যমের খবর
ঘটনার পর ওই যুবকের আপন মামা বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান এবং গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। তবে পারিবারিক একটি সংকট মেটাতে ব্যর্থ হয়ে উল্টো ভাগনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে কথা বলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই মামার কড়া সমালোচনা করছেন অনেকেই। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবারের মুরুব্বি হিসেবে তিনি কেন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করতে পারলেন না এবং কেন পরিবারের সম্মানহানি করে বিষয়টি জনসমক্ষে আনলেন।
গারো সমাজে পুরুষদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
গারো সমাজ মাতৃপ্রধান হওয়ায় ঐতিহাসিকভাবে সেখানে নারীরাই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে থাকেন। তবে মধুপুরের এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এখন গারো সমাজের ছেলেদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন।
নেটিজেনদের অনেকেই বলছেন, “মায়ের সম্পত্তির অধিকার চাওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না। সম্পত্তিতে ছেলেদের কোনো ভাগ না থাকলে তাদের জন্ম দেওয়ার যৌক্তিকতা কী?” যুগের সাথে তাল মিলিয়ে গারো সমাজের প্রতিটি ছেলের জন্য সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ রাখার পক্ষে মত দিচ্ছেন সচেতন মহলের একাংশ।
উল্লেখ্য, সম্মানহানি এড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে ওই যুবক বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তবে এই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাতৃপ্রধান সমাজব্যবস্থার আইনি ও প্রথাগত দিকগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
