Touch Bangladesh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

জিমে স্টেরয়েড ও টেস্টোস্টেরনে কমে প্রজনন ক্ষমতা

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

জিমে হরমোন চিকিৎসায় পেশি বাড়লেও কমতে পারে প্রজনন ক্ষমতা: সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

শরীর সুস্থ রাখা কিংবা আকর্ষণীয় পেশি গঠনের উদ্দেশ্যে জিমনেসিয়ামে গিয়ে ভারোত্তোলন করা তরুণদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দ্রুত পেশি বাড়াতে টেস্টোস্টেরন হরমোন ও অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। তারা সতর্ক করছেন যে, এর ফলে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

হরমোন ও শুক্রাণু উৎপাদনের বিজ্ঞান

চিকিৎসকদের মতে, মানবদেহে টেস্টোস্টেরন ও শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়াটি মস্তিষ্ক ও অণ্ডকোষের জটিল হরমোন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কৃত্রিম উপায়ে বাইরে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে মানব মস্তিষ্ক বার্তা পায় যে শরীরে পর্যাপ্ত হরমোন রয়েছে। ফলে মস্তিষ্ক থেকে অণ্ডকোষকে উদ্দীপিত করা গুরুত্বপূর্ণ দুটি হরমোন—লুটিনাইজিং হরমোন (LH) এবং ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH)—এর নিঃসরণ কমে যায়।

এর সরাসরি প্রভাবে অণ্ডকোষ নিজস্ব টেস্টোস্টেরন ও শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে বা বন্ধ করে দেয়। চিকিৎসকরা জানান, রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি থাকা আর শুক্রাণু উৎপাদন সচল থাকা এক বিষয় নয়। একজন পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অনেক বেশি থাকলেও বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা শূন্যে নেমে আসতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাজুস্পার্মিয়া’ বলা হয়।

সুস্থ হতে কত দিন সময় লাগে?

স্টেরয়েড বা কৃত্রিম টেস্টোস্টেরন ব্যবহার বন্ধ করলেই প্রজনন ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে ফিরে আসে না। চিকিৎসকরা জানান, নতুন শুক্রাণু তৈরি হতে সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ দিন সময় লাগে।

হরমোন প্রয়োগের মাত্রা এবং সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে পেতে তিন থেকে ছয় মাস, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে অনেকের ক্ষেত্র এটি স্থায়ী প্রজননহীনতায় রূপ নিতে পারে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, প্রজনন ক্ষমতা কমে গেলেও শরীরের বাইরে তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষতিকর উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে পেশিবহুল ও দেখতে সুস্থ মনে হওয়া একজন পুরুষও অজান্তে বন্ধ্যাত্বের শিকার হতে পারেন, যা অনেক সময় সন্তান নেওয়ার চেষ্টার আগ পর্যন্ত অনাবিষ্কৃত থেকে যায়।

প্রজনন ক্ষমতা সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, নিয়ম মেনে জিমে যাওয়া কিংবা ব্যায়াম করা মোটেও ক্ষতিকর নয়। কৃত্রিম হরমোনের প্রয়োগ ছাড়াই সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ এবং চিকিৎসকের অনুমোদিত পরিপূরক ব্যবহারের মাধ্যমে পেশি গঠন সম্ভব।

ভবিষ্যতে সন্তান গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলে যেকোনো ধরনের হরমোন থেরাপি বা স্টেরয়েড গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ফিটনেস অর্জনের পাশাপাশি শুরু থেকেই প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।