![]()
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছেন এই অভিনেতা।
নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের পক্ষে তিনি কী ধরনের নির্দিষ্ট প্রমাণ দিয়েছেন, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন
কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার পর তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ, নজরদারি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি ছাত্রাবাস ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
নাসিরুদ্দিন শাহের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তাঁর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ থাকা জরুরি। প্রশাসনের সমালোচনা করার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা স্বাধীন চিন্তা, সৃজনশীলতা ও শিক্ষার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কী নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ?
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানটির একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি সংগঠনের সদস্যদের বিরোধের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে প্রশাসনিক জবাবদিহি, ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার এবং শিক্ষাঙ্গনে স্বাধীন পরিবেশ বজায় রাখার প্রশ্ন সামনে এসেছে।
চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাধীনভাবে চিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিজেপির জয় নিয়ে প্রশ্ন
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে জয় পেতে কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে দলটি।
তবে এই অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কী তথ্য বা প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তাই নির্বাচনে কারচুপির বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়, নাসিরুদ্দিন শাহের অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক
নাসিরুদ্দিন শাহ এর আগেও বিভিন্ন নাগরিক প্রতিবাদ ও ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বাধীন মতপ্রকাশের প্রশ্ন তুলে ধরেছেন তিনি।
তাঁর মন্তব্যের মধ্য দিয়ে একদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে।
তবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রয়োজন।
