![]()
চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদের করা মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আদালতে হাজির হওয়ার কথা জানিয়েছেন পরীমনি।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আদালতে যাব, যেহেতু পরোয়ানা জারি করে ফেলেছে। কিছুই তো করার নেই।’
মামলাটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, মামলার কারণে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে।
পরীমনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত সঠিকভাবে হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, তদন্ত যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, এ মামলা কি সারা জীবন চলবে?
যেভাবে পরোয়ানা জারি হলো
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।
পরে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল করেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ওই সময়ও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
মামলার পেছনের ঘটনা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে গিয়ে অ্যালকোহল পান করেন। এ সময় ক্লাবে ভাঙচুর, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তিনি।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
তবে মামলার অভিযোগ এবং পরীমনির বক্তব্যের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
