Touch Bangladesh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ নভেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ট্রাম্পের পরাজয়ে তেহরানে ইরানিদের উল্লাস

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৪:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছেন মার্কিন ভোটাররা। আর রিপাবলিকানদের এই পরাজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানে উল্লাসে মেতে ওঠেন হাজার হাজার ইরানি।

বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দূতাবাসের সামনে আয়োজিত বার্ষিক মার্কিনবিরোধী সমাবেশে অংশ নেন তারা। এ সময় ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ও ‘ইসরাইল নিপাত যাক’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সমাবেশস্থল।

বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমালোচনা করে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন তারা।

সমাবেশে প্রদর্শিত একটি বড় ব্যানারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শিকলে বাঁধা রক্তমাখা বুলডগ হিসেবে চিত্রিত করা হয়। সেই শিকলের অন্য প্রান্ত ধরে রাখা শয়তানের অবয়বের চরিত্রটিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আদলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

অন্য কয়েকটি ব্যানারে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় তিনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমাবেশস্থলে টাঙানো বিশাল একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘মূল্য কত হবে, তা ইরানের জনগণ নির্ধারণ করেছে।’ এর পাশে বিশ্বের মানচিত্রের ওপর সারি সারি কালো তেলের ড্রাম সাজিয়ে রাখা হয়। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল ও কূটনীতিকদের জিম্মি করার ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ৪০ বছর বয়সী মাহমুদখানি বলেন, ‘আমেরিকা বহু বছর ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে। কিন্তু ইরানের কোনো ক্ষতি তারা করতে পারেনি।’

ট্রাম্পের দলের নির্বাচনী পরাজয়ের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

মাহমুদখানি বলেন, ‘তেলের দাম এত বেড়ে যাওয়া নিয়ে আমরা নিশ্চয়ই খুশি নই। তবে এতে কিছুটা তৃপ্তি পাচ্ছি যে, এখন আর শুধু আমরাই এই কষ্ট ভোগ করছি না। বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কেবল ইরানের মানুষকেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।’

যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওয়াশিংটনও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে।

তেহরানের ৬২ বছর বয়সী কাপড় ব্যবসায়ী মজিদ হেইদারি মনে করেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন, ‘ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র যখন একজোট হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন আমাদেরও এই বিশেষ হাতিয়ার ব্যবহার করতে হবে। তাদের দেশের জনগণকে দুর্ভোগের মুখে ফেলে সরকারগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া আমাদের সামনে বিকল্প ছিল না।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলাফল ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

ইরানের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদও একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান—যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন না।

মোহাম্মদ বলেন, ‘গত ৫০ বছর ধরে ইরানের জনগণের প্রতি মার্কিন সরকারের শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব একই রয়ে গেছে।’

যুদ্ধের বিপক্ষে মার্কিন জনমত

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে, মার্কিন জনগণ স্পষ্টভাবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ইরান তাদের এই বার্তাকে পূর্ণ সমর্থন জানায়।

তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তেহরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বাঘেরিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো অবস্থাতেই আমাদের চরম শত্রু। হোয়াইট হাউসে কে ক্ষমতায় বসলো, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।’

সূত্র: এএফপি

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।