Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ১ জুলাই ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

‎খোলস পাল্টালেই কি অজগর কিং কোবরা হয় নাকি?

প্রতিবেদক
Touch Bangladesh News
জুলাই ১, ২০২৬ ৪:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading


‎স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল

‎রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের সংকট যদি শুধু পোশাকে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে সংস্কার হতো সবচেয়ে সহজ কাজ। একটি নতুন ইউনিফর্ম, কয়েকটি নতুন রঙ, একটি প্রজ্ঞাপন—আর তাতেই জনগণের আস্থা ফিরে আসত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। খোলস পাল্টালেই যেমন অজগর সাপ কোবরা হয়ে যায় না, তেমনি পুলিশের পোশাক বদলালেই পুলিশ বাহিনীর চরিত্র, সংস্কৃতি কিংবা জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বদলে যায় না।

‎আজ থেকে বাংলাদেশ পুলিশ নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙের শার্টের সঙ্গে খাকি প্যান্ট—এই নতুন পোশাকে মাঠে নেমেছেন পুলিশ সদস্যরা। এটি গত দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের সংস্কারের অংশ হিসেবে লোহা-ধূসর শার্ট ও কফি-বাদামি ধূসর প্যান্ট চালু করা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, এটি হবে নতুন বাংলাদেশের নতুন পুলিশের প্রতীক। কিন্তু সেই পোশাক মাঠপর্যায়ে যেমন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি, তেমনি জনগণের আস্থাও ফিরিয়ে আনতে পারেনি। সরকার পরিবর্তনের পর আবার সেই ইউনিফর্ম বাতিল করে নতুন রঙ নির্ধারণ করা হলো।

‎এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সংস্কার কি পোশাকের, নাকি প্রতিষ্ঠানের?

‎আরেকটি প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বারবার ইউনিফর্ম পরিবর্তনের আর্থিক মূল্য কে দিচ্ছে? উত্তর একটাই—রাষ্ট্র, অর্থাৎ জনগণ। পুলিশের মতো বিশাল একটি বাহিনীর কয়েক লাখ সদস্যের জন্য নতুন শার্ট, প্যান্ট, জ্যাকেট, কার্ডিগান, পুলওভার, ক্যাপ, নারী সদস্যদের আলাদা পোশাকসহ সম্পূর্ণ ইউনিফর্ম পরিবর্তন করতে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। একবার নয়, অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এই পরিবর্তন মানে কোটি কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়। যে অর্থ আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি কিংবা পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় হতে পারত, তার একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে পোশাক বদলের পেছনে।

‎প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যয়ের সুফল কী? জনগণ কি নতুন রঙের ইউনিফর্ম দেখে পুলিশের ওপর বেশি আস্থা রাখবে? থানায় গিয়ে কি হয়রানি কমবে? রাজনৈতিক প্রভাব কি দূর হবে? দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা বিচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ কি শুধু নতুন শার্ট পরলেই শেষ হয়ে যাবে?

‎বাস্তবতা হলো, জনগণ পুলিশের শার্টের রঙ দেখে বিচার করে না; বিচার করে আচরণ দেখে। থানায় গিয়ে সম্মান পায় কি না, অভিযোগ করলে ন্যায়বিচার পায় কি না, ক্ষমতাবান আর সাধারণ মানুষের জন্য আইনের প্রয়োগ সমান হয় কি না—এসবই পুলিশের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে।

‎দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে প্রায়ই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকে বাহ্যিক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। নাম বদলায়, লোগো বদলায়, পোশাক বদলায়; কিন্তু কর্মসংস্কৃতি, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব একই জায়গায় থেকে যায়। ফলে জনগণের হতাশাও বদলায় না।

‎পুলিশের প্রয়োজন আধুনিক প্রশিক্ষণ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব, মানবাধিকার বিষয়ে সংবেদনশীলতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং কার্যকর জবাবদিহি। একজন পুলিশ সদস্যের কাছে আইনই হবে একমাত্র নির্দেশক—ক্ষমতাসীন ব্যক্তি নয়। এই পরিবর্তনই প্রকৃত সংস্কার। ইউনিফর্ম তার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।

‎রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা জরুরি। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যদি প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পোশাক, প্রতীক কিংবা পরিচয় পাল্টাতে থাকে, তাহলে সেটি সংস্কার নয়; বরং নীতির ধারাবাহিকতার অভাবের প্রতিফলন। জনগণের করের অর্থ রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের কারণে বারবার একই খাতে ব্যয় হওয়ার সুযোগ নেই।

‎তাই প্রশ্নটি থেকেই যায়—খোলস পাল্টালেই কি অজগর সাপ কিং কোবরা সাপ হয়? উত্তরটি যেমন প্রকৃতিতে স্পষ্ট, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও। বাহ্যিক রূপ বদলানো সহজ; কিন্তু প্রকৃত চরিত্র বদলাতে লাগে সাহস, জবাবদিহি, পেশাদারিত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার। পুলিশের প্রকৃত পরিবর্তনও সেখানেই, ইউনিফর্মের রঙে নয়।

লেখক: স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল (সিইও, প্রতিষ্ঠাতা: বাংলাদেশ সাপোর্টার্স ফোরাম)

‎[বি.দ্র. : এটি  কারো প্রতি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতামত রয়েছে।  রাষ্ট্রীয়বাদী ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেলের নিজস্ব মতের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা। ]

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।