![]()
চলন্ত সিলিন্ডারের পেটে ১ লাখ ইয়াবা! কুমিল্লার ডিবি-কে ‘খালি হাতে’ ঘুরিয়ে চালকের অবিশ্বাস্য চম্পট
মাদক পাচারকারীদের অভিনব কৌশলের কাছে এবার রীতিমতো বোকা বনে গেল জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। চলন্ত গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে সচল সংযোগ রেখেই পাচার করা হচ্ছিল ১ লাখ পিস ইয়াবা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মাইক্রোবাসটি আটক করে দিনভর চুলচেরা তল্লাশিও চালায় ডিবি। কিন্তু চতুর চালকের বুদ্ধির কাছে পরাস্ত হয়ে শেষমেশ ‘কিছুই মেলেনি’ ভেবে গাড়িটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। আর সেই সুযোগে ডিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে কোটি টাকার মাদকের চালান নিয়ে উধাও হয়ে গেছে চালক ও তার সহযোগীরা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরেই তোলপাড় শুরু হয়েছে।
- 🚗 অভিযুক্ত পাচারকারী: টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের কানজরপাড়ার মাইক্রোবাসচালক আব্দুল মালেক ওরফে হাসান মাঝি এবং সহযোগী সৈয়দ নুর ওরফে নুরুল আমিন।
- 🛠️ ওয়ার্কশপে তল্লাশি: গত ১৯ জুন গাড়িটি আটকে ডিবির সন্দেহ হলে পদুয়ার বাজারের একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে পার্টস খুলেও তল্লাশি করা হয়, কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর নজর যায়নি কারও।
- 🚨 ভয়ানক সেই সত্য: মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে খোদ কক্সবাজারের মাদক চক্রের সদস্যরা ডিবিকে জানায়— তথাকথিত ‘খালি’ গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরেই ছিল ১ লাখ ইয়াবা, যা ইঞ্জিন সচল রেখেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল!
১৫ হাজারের তথ্যে খুঁজতে গিয়ে মিস হলো ১ লাখ!
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া ওই মাইক্রোবাসটিতে প্রাথমিকভাবে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা থাকার তথ্য পেয়েছিল ডিবি। এই তথ্যের ভিত্তিতেই দুপুরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গাড়িটি জেরা করা হয়। তথ্যদাতার অনড় দাবির মুখে পদুয়ার বাজারের ওয়ার্কশপে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশিতেও কোনো মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়ায় রাতে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্ত হয়েই চালক হাসান মাঝি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে ইয়াবার পুরো চালানটি অন্য কোথাও বিক্রি করে দিয়ে সহযোগীদের নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
“সিলিন্ডারের ভেতর মাদক থাকতে পারে, ধারণা ছিল না”
মাদক চক্রের কাছ থেকে অবিশ্বাস্য এই তথ্য জানার পর নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন কুমিল্লা ডিবির এসআই পবিত্র সরকার। তিনি বলেন, “আমরা গাড়ির প্রায় প্রতিটি সম্ভাব্য অংশই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তল্লাশি করেছিলাম। কিন্তু সচল ইঞ্জিন সংযোগ থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরেও এভাবে বিশেষ কৌশলে মাদক লুকিয়ে রাখা সম্ভব, তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। ফলে তথ্যদাতার দেওয়া তথ্যটি ভুল মনে করেই আমরা গাড়িটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম।” এই ঘটনার পর মহাসড়কে মাদক তল্লাশির পদ্ধতিতে নতুন কোনো কড়াকড়ি আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
