![]()
নিউজ প্রোভাইডার
সারাদেশে টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা তীব্র উজানের ঢলের কারণে দেশের চারটি বিভাগে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার (Flash Flood) শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের উজানে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশঙ্কাজনক এই পরিস্থিতির মুখে রয়েছে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের একাধিক জেলা।
বিভাগভিত্তিক বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট নিচে তুলে ধরা হলো:
চট্টগ্রাম বিভাগ: মুহুরী-সাঙ্গু নদীর পানি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
মৌসুমি বায়ুর প্রচ্ছন্ন প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবিরাম ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে এই অঞ্চলের প্রধান প্রধান নদী—গোমতী, মুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুত বাড়ছে এবং যেকোনো সময় তা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো ডুবিয়ে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ: সুরমা-কুশিয়ারায় তীব্র ঢল
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের নদীগুলোর পানিও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ভারতের মেঘালয় ও আসামের বৃষ্টির পানির প্রভাবে সুরমা-কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও কংস নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলার নিচু এলাকা এবং নিম্নাঞ্চলে সাময়িক ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু এলাকার ফসলি জমি ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।
রংপুর বিভাগ: তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, ঝুঁকিতে লালমনিরহাট-নীলফামারী
উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগেও বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। হিমালয় অববাহিকায় বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ইতিমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন চরাঞ্চল এবং তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
